বৈশাখে অর্থনীতির পালে মিশ্র হাওয়া – U.S. Bangla News




বৈশাখে অর্থনীতির পালে মিশ্র হাওয়া

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ১৪ এপ্রিল, ২০২৩ | ৫:২১
বাংলা নববর্ষ উৎসব আনন্দের। আনন্দের ব্যয় আছে, অর্থনীতি আছে। পহেলা বৈশাখমুখী অনেক অর্থনৈতিক আয়োজন চলে প্রতিবছর। গ্রামীণ মেলা ও শহুরে কেনাকাটা জমে ওঠে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বৈশাখী ভাতা থাকায় খরচের সুযোগও থাকে। এদিনে সব স্তরের নারী-পুরুষ তাঁতের শাড়ি বা সুতির পাঞ্জাবি পরে থাকেন। শিশু-কিশোরেরাও বাদ যায় না। দেশীয় শৈলী ও নকশায় তৈরি পোশাকে বৈশাখী আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়। তাঁতশিল্প এবং দেশীয় পোশাকের ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলো এই উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎপাদন বাড়ায়, ব্যবসা প্রসারিত হয়। তবে এই বছরে চিত্র কিছুটা মিশ্র। কাছাকাছি সময়ে ঈদ ও নববর্ষ হওয়ায় ক্রেতারা কেনাকাটায় সতর্ক ও সাশ্রয়ী। অবশ্য মূল্যস্ফীতির চাপও ক্রেতাদের কেনাকাটার হাতকে খাটো করে দিয়েছে। বিষয়টি

ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনার মধ্যেও ছিল। তাই পোশাকপণ্যের শৈলী ও নকশাকে একচেটিয়াভাবে বৈশাখকেন্দ্রিক না করে বৈচিত্র্য আনার কৌশল নিয়েছেন তাঁরা। বৈশাখ ও ঈদ দুই উৎসবেই পরা যায় এমন পোশাক এনেছেন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটের কর্ণধার খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘বৈশাখ আর রোজা এক সময়ে হওয়ায় কোনটা বৈশাখের আর কোনটা ঈদের জন্য বিক্রি হচ্ছে, তা আলাদাভাবে বোঝা কঠিন। এ ছাড়া, গত দশ দিন আগেও বৈশাখের আয়োজন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। সম্প্রতি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে যে, সর্বত্র বৈশাখের উদযাপন হবে। তাই গত কয়েক দিন ধরেই বৈশাখকেন্দ্রিক বিক্রি বাড়ছে।’ অর্থনীতি গবেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড.

মাহা মির্জার মতে, ‘বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের পুনর্জাগরণে পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখ, আর দুই ঈদের বড় ভূমিকা আছে। এসব উৎসবে প্রচুর তাঁতবস্ত্র, মানে শাড়ি-পাঞ্জাবি-ফতুয়া বিক্রি হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মডেল ও ব্যক্তিত্ব বিবি রাসেলও দেশীয় তাঁতের পোশাককে জনপ্রিয় করে তোলেন। এর পরে দেশীয় ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউসগুলো চল দেখে এগিয়ে আসে। উৎসবগুলোতে শাড়ি-পাঞ্জাবির প্রত্যাবর্তনও দেখতে পেয়েছি আমরা। ঈদের সময় ভারতীয়-পাকিস্তানি পোশাক প্রচুর বিক্রি হয়। তবে ফাল্গুন আর বৈশাখে দেশি শাড়ি, দেশি পাঞ্জাবির একচ্ছত্র ব্যবসা চলে। এবং সেটি শুধু দেশি দশ-এ না। আপনি অনলাইন শাড়ির শপগুলোর বিক্রিবাট্টা দেখলেও বুঝবেন। এই সময় অনেক মেয়েই আছে, যারা শাড়ি কিনবেই। তবে বড় ফ্যাশন হাউসেরা বড় ব্যবসা করলেও,

নারী অনলাইন উদ্যোক্তারা এগিয়ে গেলেও, তাঁতিদের মজুরি কিন্তু বাড়েনি।’ সিরাজগঞ্জের তাঁত ব্যবসায়ী মো. রঞ্জু মিয়া রসনামালা ইউভিং ফ্যাক্টরির কর্ণধার। ঈদ ও বৈশাখ উপলক্ষে শতাধিক কারিগর দিয়ে লাল ও হলুদ রঙের শাড়ি তৈরি করিয়েছেন। সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে কাপড়ের হাটে গিয়ে শাড়ি বিক্রি করেন তিনি। শাড়ির পাইকারি দাম ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘চৌহালী থানাটি তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হলেও উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র বাজারজাতকরণে আগে বিপাকে পড়তে হতো তাঁতিদের। এখন আর সেই সমস্যা হয় না।’ সপ্তাহে তৈরি পোশাক দু’দিনের হাটে গিয়ে তিনি বিক্রি করেন। প্রতি সপ্তাহে তিনি প্রায় ৬০০০ পিস শাড়ি বিক্রি করেন। সেই হিসাবে চলতি

মাসেই প্রায় ৯৬ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, রোজার আগে থেকে বিক্রি অনেকটা বেড়েছে। বৈশাখ উপলক্ষেও এবার হলুদ-লাল রঙের শাড়ি বিক্রি হয়েছে। বেলকুচির সূবর্ণসাড়া থেকে এ হাটে লুঙি বিক্রি করতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন। তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার তাঁতিরা প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকার লুঙ্গি এনে এনায়েতপুর হাটে বিক্রি করেন। এনায়েতপুর হাটে সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার শাড়ি, লুঙ্গি এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার অন্যান্য পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে জানান এখানকার বয়নশিল্পীরা। আরেক উদ্যোক্তা সায়মা সুলতানা স্নিগ্ধা ‘সোলো’ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তাঁতিদের নিয়ে তিনি কাজ করেন। তিনি বলেন ভিন্ন কথা। এবার ঈদের আগে বৈশাখ হওয়ায় তেমন গুরুত্ব দেননি। ঈদ

উপলক্ষে তৈরি করেছেন নানা রঙের শাড়ি। পাড়ের ডিজাইনে এনেছেন ভিন্নতা। তবে বৈশাখ ঘিরে ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি নয়, টি-শার্ট তৈরি করেছেন। বিক্রিও ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি। কাপড়ের হাটের বেচাকেনা বছরজুড়েই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর হাট, শাহজাদপুর হাট, সোহাগপুর হাট; টাঙ্গাইলের করটিয়া হাট, বল্লা বাজার হাট ও বাজিতপুর হাট; নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় গাউসিয়া হাট, নরসিংদীর বাবুর হাট, ঢাকার ডেমরা বাজারে জামদানি হাট, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নোয়াপাড়া জামদানি হাট, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও পোড়াদহ হাট এবং খুলনার ফুলতলা হাটে পাইকারি বিক্রি চলে। ঈদ ও বৈশাখ উপলক্ষে এবারও ভালো বিক্রি করেছেন বলে জানান বিভিন্ন হাটের ব্যবসায়ীরা। এসব হাটে দেশীয় বস্ত্র বাণিজ্য চলে। এসব হাটের সাপ্তাহিক বিক্রির পরিমাণ দেড় হাজার

কোটি টাকারও বেশি। বৈশাখী কেনাকাটার মিশ্র অবস্থার চিত্র উঠে আসে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের কথায়ও। তিনি বলেন, ‘সাধারণত নববর্ষ ঘিরে অর্থনীতিতে কিছুটা চাঙ্গাভাব তৈরি হয়। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। মানুষ এখন বিলাসিতা এড়ানোর চেষ্টা করছে। তাছাড়া বঙ্গবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে বৈশাখের বেচাকেনা কম। গেল বছর পহেলা বৈশাখ ঘিরে সব খাতে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। কিন্তু এবার যে পরিস্থিতি চলছে তাতে এক থেকে দেড়শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী বছর পহেলা বৈশাখে ব্যবসা-বাণিজ্য

ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে বলে প্রত্যাশা করি।’ দেশীয় ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা দেশীয় পোশাকের বাণিজ্যিক বিস্তারের শুরু হয় স্বাধীনতার পরের ১০ বছরে। প্রথমে ঢাকার রূপায়ণ ও নিপুণ এবং পরে আড়ং যাত্রা শুরু করে। উৎসব-পার্বণ ঘিরে দেশীয় পোশাকের নতুন ধারণা দিয়ে বুটিককে পরিচিত করে তুলে এসব প্রতিষ্ঠান। এ সময় কারিকা, কুমুদিনী, সেতুলী, জয়া, শুকসারি, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরসহ আরও বেশ কয়েকটি বুটিক কারু ও পোশাকশিল্পকে দেশজ ভাবনার আলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করে। তাদের প্রচেষ্টার সাফল্যও আসে। এর বিকাশ ঘটে আশির দশকে। যুক্ত হয় নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীকালে অঞ্জন’স, নিপুণ, কে ক্র্যাফট, রঙ, প্রবর্তনা, বাংলার মেলা, নগরদোলা, বিবিআনা, দেশালসহ অনেক বুটিকই নামি

ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের সংগঠন ফ্যাশন এনট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ফ্যাশন বাজারের ব্যাপ্তি ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এক দশক আগেও এটি ছিল এক হাজার কোটি টাকার মতো। এ থেকেই দেশীয় ফ্যাশনের বিস্তৃতির বিষয়টি বোঝা যায়। বিশ্বরং-এর কর্ণধার ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর নির্দিষ্ট ক্রেতা গড়ে উঠেছে। এছাড়া বছরজুড়েই দেশে নানা উৎসব উদযাপিত হয়। এসব উৎসব ঘিরে দেশীয় ব্র্যান্ড হাউসগুলো প্রতিনিয়ত দেশজ ডিজাইনে তৈরি পোশাকে আনছে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা। পণ্যের গুণগত মানও বজায় রাখছে। ফলে বিক্রি হবেই।’
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গাজায় আশ্রয় শিবিরে ইসরাইলের হামলা, নিহত ১১ শোকের শহরে আনন্দ মিছিল করল ছাত্রদল জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটি গঠন পুলিশ ছাড়া একদিন রাস্তায় আসেন দেখি কেমন পারেন: ফারুক সরকার জুলুম করতে পারে, জিনিসের দাম কমাতে পারে না: মান্না ইউক্রেনে ‘আত্মহত্যার বাঁশিওয়ালা’ দেশে ফিরে স্ত্রী ও মেয়ের লাশ গ্রহণ করলেন পোল্যান্ড প্রবাসী মালয়েশিয়ায় কাজ না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ৩৪ হাজার বার্গার খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের’ সুফল পেতে বাড়াতে হবে কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম বেইলি রোডে আগুন: সন্দেহজনক ২ পাইপলাইন গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলল যুক্তরাষ্ট্র ঢাকার ৯০ শতাংশ ভবনে নকশার বিচ্যুতি সড়ক পরিবহণ আইনের আওতায় মালিকদের আনার প্রস্তাব ডিসিদের শনাক্তের পরও মিনহাজের লাশ পেতে ভোগান্তি দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন ৬১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা স্বাধীনতার ইশতেহারে কাস্টমসের হয়রানিতে আমদানি শূন্য বইমেলার শেষ দিনে ভিড় বিক্রি দুই-ই কম