বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবস

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৫ আগস্ট ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবস

ক্যানসারের চিকিৎসা জটিল হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। মাথার খুলির মুখের অঞ্চল এবং গলার ভেতরে অনেকগুলো স্ট্রাকচার বা অঙ্গ আছে যেমন-নাক, সাইনাস, নাকের পেছনে ন্যাসোফ্যারিংস, মুখ, মুখগহ্বর, জিহবা, গলার টনসিল, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, থাইরয়েড গ্রন্থি, লালাগ্রন্থি।

এগুলোর সমষ্টিগত ক্যানসারকে হেড-নেক ক্যানসার বলা হয়। আমাদের গলার ভেতরের দিকটা একটা আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে, যেটাকে আমরা মিউকাস মেমব্রেন বলি। এই মিউকাস মেমব্রেনে ক্যানসার বেশি হয় এবং এটাকে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় Squamous Cell ক্যানসার বলে থাকি। একে বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধযোগ্য মরণব্যাধি নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে দ্বিগুণ।

নাক-কান-গলার ক্যানসারের কারণ : ১. তামাক ও মদ্যপান মূল কারণ বিবেচ্য হলেও আমাদের দেশে পান-সুপারি-জর্দা অনেকাংশে দায়ী; ২. অতিরিক্ত রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস; ৩. দীর্ঘক্ষণ সুপারি পাতা গালের চিপায় রেখে চিবানো; ৪. অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাজাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস; ৫. হিউম্যান প্যাপিলমা ভাইরাসের সংক্রমণ; ৬. কিছু নির্দিষ্ট প্যাকেটজাত লবণাক্ত খাবার এবং যারা বিভিন্ন ফার্নিচার কারখানায় কাঠ ও রঙের কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে নাক ও নাকের পেছনে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে; ৭. বংশগত কারণ থেকে হতে পারে, তবে খুব কম; ৮. এসিডিটি সমস্যা থেকে খাবার পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে আসার রোগে দীর্ঘদিন ভুগলে গলার ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে; ৯. সবুজ শাক-সবজি ও ভিটামিন সি-জনিত পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করা; ১০. মুখের ভেতর অপরিষ্কার রাখা এবং দাঁতের ক্রনিক ইনফেকশন হলে; ১১. নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন রক্তশূন্যতায় ভুগলে।

উপসর্গ : সাধারণত ৬০ শতাংশ রোগী বিলম্বে ডাক্তারের কাছে আসে। দেখা যায়, রোগী যাকে সামান্য টিউমার ভেবে গুরুত্ব দেননি, সেটিই বহুদিন ধরে বয়ে চলেছে ক্যানসারের জীবাণু। কারণ এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথাহীন। এতে সামান্য কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়, যা প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। তাই রোগীরা দেরি করে আসে। ঘাড়ের গোটা বা লিম্ফ নোড এবং আসল জায়গা থেকে অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসারের বিস্তারের ভিত্তিতে এ ক্যানসারকে চার পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। ১. মুখ ও গলার ভেতরে বা বাইরে ঘা/ক্ষত/আলসার, যা প্রাথমিক চিকিৎসায় সহজে শুকায় না, বরং দিন দিন বেড়ে যায়। এই ক্ষতের কারণে খাবার চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হয় এবং জল পান করতেও অসুবিধা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হয় গলায় কিছু আটকে আছে; ২. গলা বা হেড-নেক আক্রান্ত অঞ্চলে ফোলাভাব; ৩. এক পাশে গলা ব্যথা, যা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে; জিহ্বা নাড়াতে অসুবিধা; দাঁত নড়ে যাওয়া বা দাঁতে ব্যথা এবং ফোলা; ৪. এ অঞ্চলের টিউমারের সঙ্গে কানে ব্যথা; ৫. কর্কশ কণ্ঠ। কোনো কোনো সময় গলার স্বরভঙ্গ নিয়েও রোগী আসতে পারেন; ৮. অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস, অরুচি ও ক্ষুধামন্দা; ৯. জিহ্বা বা মুখের ভেতরের উপরিত্বকে সাদা/লাল ছোপ বা প্যাচ; ১০. নাকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত আসা; ১১. মুখ দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত, কাশির সঙ্গে রক্ত; ১২. চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মুখ খুলতে অসুবিধা; ১৩. থাইরয়েড গ্রন্থি দীর্ঘদিন ফুলে শক্ত হয়ে থাকা; ১৪. মুখের উভয় পাশে কানের ঠিক নিচের লালা গ্রন্থি ধীরে ধীরে বড় হয়ে শক্ত হয়ে গিয়ে যদি মুখ বেঁকে যায়।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে একজন নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানো উচিত।

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী : নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ; হেড-নেক সার্জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।