বিয়ে ও কিছু কথা ( শেষ পর্ব )

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 2180 বার
বিয়ে ও কিছু কথা ( শেষ পর্ব )

ড.আব্দুস সাত্তার,ওয়াশিংটন ডি,সি ঃ- বিয়ের কথা আসলেই যত কথা? তকদির ,কপাল ও ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে দেখলাম বিয়ে হচ্ছে না! ভাইটি ল্যাংড়া, আতুর নয়। কিন্তু কেন যে বিয়ে হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। প্রতিটি ছেলে মেয়ের পিতা-মাতা,ও অভিভাবক আপনাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করে বিয়ের আগে আপনার কি বাড়ি,গাড়ি ছিল? আপনারা কিভাবে ভুলে গেলেন আপনার বাবা-মা’র বাড়িও সাইকেলটি দেখাইয়া আপনাকে বিবাহ করিয়েছে! আবার অনেক অভিবাবক জানতে চায় ছেলে-মেয়ে কি কাজ করে, তাদের বিজনেস কত বড়? অবাক হচ্ছি যখন শুনী যারা এগুলো জানতে চায় তাঁরা সবাই এখনো বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছে এবং অনেক অভিবাবক আছে তাঁরা নিজেরাও এখনো বিয়ে করেনি! এখন প্রশ্ন তাদের বিয়ের সময় কি বলবে?

চিন্তামগ্ন অবস্থায় সোফায় বসে কি যেন ভাবছিলাম। আমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার শাশুড়ি আম্মা বললো কি বাবা ভাইয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করছ? ভেবনা হয়ে যাবে। হয়ত বিয়ের ফুল ফূটেনি! ফুটলেই হয়ে যাবে। মানুষের প্রথম বিয়ের ফুল যে কখন ফুটে, তা বলা মুশকিল । মেয়েদের বেলায় ১২/১৩ বছরের মধ্যেই বিয়ের ফুল ফুটে যায় । আবার কারোর কুড়ি পেরিয়ে ৩০/৩৫ বছরেও ফুটে । পুরুষের বেলাও একই নিয়মেই ফুটে বিয়ের ফুল, কারও তাড়াতাড়ি, কারও দেরিতে । আবার কোনও কোনও মেয়ের বিয়ের ফুল ফুটেই না । সে থেকে যায় চির কুমারী হয়ে । বিদাতার বন্ধন কার জন্য কোথায় যে বেঁধে রেখেছে, তা কে জানে! কারোর বিয়ে হয় বাড়ির পাশে, কারোর আবার যেতে হয় শহর ছেড়ে গ্রামে । কেউ আসে গ্রাম থেকে শহরে, কেউ আবার থেকে যায় নিজের আত্মীয়স্বজনদের সংসারে । কেউ আবার চলে যায় দেশ থেকে বিদেশে।

শাশুড়ি আম্মার কথা শুনে অবাক হলাম! বিশ্বে ৪০০,০০০হাজার ফুলের মাঝে প্রায় ৫৫০টি ফুলের নাম জানি এবং চোখে দেখছি কিন্তু বিয়ে ফুল চোখে দেখি নাই। এরই মাঝে একটি পাত্রীর সন্ধান পেয়ে দেখা শুনা কথা বার্তা একরকম শেষ শুধু বিয়ের তারিখ হবে। আমি ভাবলাম হয়ত বিয়ের ফুল ফোটেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুলটি ফোটার পূর্বেই ঝরে গেছে। নিজেকে এই বলে সান্তনা দিলাম,হয়ত ফুলের গাছটি ভাল পাত্রে ছিল না বা ফোটার পূর্বে ভালো যত্ন নেওয়া হয়নি! আজ হঠাত করে একটি বন ফুলের ছবি দেখাল আমার বন্ধু নাজির গাজী। আমি ফুলটি দেখে মুগ্ধ হলাম। ছোট ভাইকে ফোনে বললাম এই ঠিকানায় যেয়ে “বন ফুল”টি দেখ,যদি পছন্দ হয় গাছের মালিককে বলে ফুলটি সাথে নিয়ে আসবে! ভাই আমার জীবনে এই ভালো একটি কাজ করেছে, মেয়েটি দেখতে যেয়ে বিয়ে করে নিয়ে আসছে। হাঁ ভাই,বন্ধু আত্মীয়-স্বজন, পারা-প্রতিবেশি আমার আদরের ছোট ভাইটি আজ বিয়ে করেছে। কোন পার্টি হয়নি। তোমরা সবাই আমাকে ক্ষমা সুন্দর ভাবে দেখবে। আমি কাউকে জানাতে পারিনি। তবে আমার জন্য অপেক্ষা কর। আমি তোমাদের সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দিব। ইনশাআল্লাহ্‌। তোমারা সবাই আনোয়ার ও জারিন এর জন্য দোয়া কর যেন ওরা সুখে শান্তিতে থাকতে পারে।

আধুনিক পিতা-মাতা,ভাই-বোন ও আভিভাবক আপনাদেরকে বলছি, মেয়ের জন্য “আবুল” ড্রাইভার আর ছেলের জন্য সাবরিনা না খুঁজে, ভালো মণের একটা সৎ ছেলে দেখুন যে আপনার মেয়েকে দুমুঠো ভাত দিতে পারে এবং পবিত্র মণের একজন মেয়ে দেখুন যে সংসারে এসে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে!!

ড.আব্দুস সাত্তার
ওয়াশিংটন ডি,সি
লেখক ও সাংবাদিক
১২/১০/২০

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।