বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২০ নভেম্বর ২০২০, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 38 বার
বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

নবেম্বর মাস চলছে। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া। যখন তখন বৃষ্টি নামার শঙ্কা নেই। অনুকূল এই সময়ে শহর ঢাকায় কত যে উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়! হয় মানে, এতকাল ধরে হয়ে আসছে। কিন্তু কোভিডের কালে এসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ভয়ে গুটিয়ে নিতে হয়েছে অনেক কিছুই। ভরা মৌসুমে স্থবির সংস্কৃতি অঙ্গন। তেমন কোন আয়োজন চোখে পড়ছে না। গানের মঞ্চ না পেয়ে ঢাকার অলি গলি ঘুরে গান করছে এক বাউল দম্পতি। হ্যাঁ, তাদের কথাই আজ খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে। শহরের মনিপুরী পাড়ায় মঙ্গলবার গান করতে দেখা যায় দুই শিল্পীকে। নির্জন দুপুরে দোতরা বাজিয়ে গান। লোকসঙ্গীত। মৌলবাদীদের নানা আস্ফালনের বিপরীতে এমন চর্চা কী যে মুগ্ধ করে! খালি গলায় গাওয়া গান। অথচ উঁচু ভবন অবদি ঠিক পৌঁছে যাচ্ছিল। নাগরিক কোলাহল ভেদ করে কানে আসছিল ‘চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে…।’ মঞ্চ বা সাউন্ড সিস্টেম ছাড়াই কী যে সুন্দর গাইছিলেন তারা! অপর গানটি- আমি ভাবছিলাম কি এই রঙে দিন যাবে রে সুজন নাইয়া/পার করো দুঃখিনী রাধারে…। কালজয়ী এই গানের আশ্রয়ে মনে হলো বাউল জুটি তাদের জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথাই বর্ণনা করছেন। সবাই তাদের শ্রোতা হলো বা ব্যথা বেদনাটুকু অনুভব করল এমন নয়। তবে সঙ্গীতপ্রেমীরা ঠিক এগিয়ে এলেন। বাসার বারান্দা থেকেই ২০, ৫০ বা ১০০ টাকার নোট ছুড়ে দিলেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে সেই নোট কুড়িয়ে নিলেন তারা। গান শেষ হলে কথা বলার সুযোগ হয় বাউল দম্পতির সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুরুষটি তখন বলছিলেন, করোনার আগে তো গান গাওয়ার অনেক জায়গা ছিল। দাওয়াত টাওয়াত পেতাম। বহুদিন হয়ে গেল সব বন্ধ। আয় রোজগার নেই। পেটে ভাতের ক্ষুধা। অন্যদিকে গান গাইতে না পেরে মন শুকিয়ে মরছে। এক পর্যায়ে দুজনে মিলে বের হয়ে পড়লাম। শহরের অলিতে গলিতে ঢুকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান শোনাচ্ছি। হঠাৎ এভাবে গান করতে দেখে কেউ শুধু অবাক হচ্ছেন। কেউবা মুগ্ধ হয়ে কিছু সাহায্য করছেন। আপাতত তা-ই দিয়ে সংসার চলছে বলে জানান তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, এমন আরও অনেক শিল্পী করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আমরা কি তাদের খোঁজ নিচ্ছি?

এবার জাতীয় নবান্ন উৎসব প্রসঙ্গ আসা যাক। গত সোমবার অগ্রহায়ণের প্রথম দিনে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে বেশ সরব হয়ে উঠেছিল শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। একাডেমির যে জায়গাটিতে কফি হাউস নামের দোকানদারি ও নিম্নমানের গল্পআড্ডা হয়, সেখানেই চমৎকার মঞ্চ গড়ে নিয়েছিল উদ্যাপন পর্ষদ। এ মঞ্চেই অনেক দিন পর একক সঙ্গীত, দলীয় নৃত্য, কবিতা- সব হলো। পরিবেশনার মাধ্যমে লোকজীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন শিল্পীরা। দর্শকও ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও পীঠাপুলির আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ ঐতিহ্যের পীঠাপুলি ফাস্টফুডের যুগেও বেশ মজা করেই খেয়েছেন আগতরা। জাতীয় নবান্ন উৎসব অন্যান্য নাগরিক উৎসব অনুষ্ঠান আয়োজনের সাহস ও শক্তি জোগাবে বলেই আশা করি আমরা।

শেষ করা যাক রাত ৮টার মধ্যে ঢাকার দোকান-পাট বন্ধ রাখার প্রসঙ্গ টেনে। গত বুধবার ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ফজলে নূর তাপস এ আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় শহরটাকে নিয়ে আসতে চাই। এটি করতে পারলে ঢাকা শহর যানজট হতে অনেকটা মুক্তি পাবে। নাগরিকরাও পরিবারের সঙ্গে অধিক সময় কাটাতে পারবেন। সব বিবেচনায় নিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান-পাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন মেয়র। তবে এর বিপরীত মতও পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, চাকরি ও ব্যবসার কাজ অনেক ক্ষেত্রেই রাত ৮টার মধ্যে শেষ করা যায় না। বাড়ি ফেরার পথে টুকটাক, এমকি জরুরী শপিং করতে হয়। কোনটা প্রকৃতই ভাল হবে ঢাকাবাসীর জন্য? প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বটে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।