বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি…। অমর এই সঙ্গীত গাইতে গাইতে প্রভাতফেরি। শহীদ মিনারের বেদি ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেয়া। সময়টা চলে এসেছে। আর মাত্র একদিন পর অমর একুশে। ১৯৫২ সালের এই দিনে শহর ঢাকায় বিরল এক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল বাঙালী। তখন পাকিস্তান। পশ্চিম অংশের শাসকেরা পূর্ব অংশে শোষণ শুরু করে দিয়েছে। সব কিছুতেই বৈষম্য। বাঙালীকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা। একই উদ্দেশ্যে মাথামোটার দল টার্গেট করে বাংলা ভাষাকে। বাঙালীর মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়। চাপিয়ে দিতে চায় অজানা অচেনা উর্দু। লম্বা সময় ধরে চলে ষড়যন্ত্র। ওরা ভেবেছিল হেসে খেলে সফল হবে। না, তা হয়নি। বরং ফুঁসে ওঠেছিল বাঙালী। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। প্রতিবাদকারীদের রুখতে ওই দিন ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ। এর ব্যত্যয় ঘটলেই গুলি। নিশ্চিত মৃত্যু। বাঙালী তবু থামবার নয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঠিকই বের হয়ে আসে মিছিল। বর্বর পাকিস্তানীরাও দেরি করেনি। নির্বিচারে গুলি চালায়। লুটিয়ে পড়ে রফিক শফিক বরকত জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করে বাঙালী। হ্যাঁ, বেদনার। শোকের। তারও বেশি গর্বেরও। কারণ ভাষার জন্য পৃথিবীর আর কোন জাতি রক্ত দেয়নি। দিয়েছে বলে জানা যায় না। আজকের পৃৃথিবীও তাই বাঙালীর আত্মত্যাগকে স্বীকার করে নিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পৃথিবীর নানা দেশে দিবসটি পালিত হয়। এবারও তা-ই হবে। ঢাকার প্রস্তুতিটা এরই মাঝে দৃশ্যমান। কয়েক দিন ধরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। নতুন করে রং করা হয়েছে বেদি। চারপাশে এলইডি বাতি। মাঝখানটা আলো ঝলমলে। অমর একুশের আগে আগে চলছে আলপনা আঁকা। দেয়াল লিখন চলছে। চারুকলার শিক্ষার্থীরা রং তুলির আঁচড়ে বাঙালীর ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরছেন। একুশের বিখ্যাত সঙ্গীত, কবিতার পঙ্ক্তি একে একে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ দৃশ্য শুধু তাকিয়ে দেখতেও ভাল লাগে। আশা করা হচ্ছে আজ কালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে সব ধরনের সাজ সজ্জার কাজ। আর ২১ ফেব্রুয়ারির ছবিটি তো খুব চেনা। শুধু শহীদ বেদি নয়, গোটা এলাকা ফুলে ফুলে ছেয়ে যাবে। করোনার কালে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব বয়সী মানুষ শ্রদ্ধা জানাবেন বায়ান্নর শহীদের। বাইরের দেশের মানুষেরাও ঢাকার এই আয়োজন দেখে অভিভূত হন। যুক্ত হতে চান। কিন্তু একটাই প্রশ্ন, কেন সারা বছর আমরা এই আবেগ ধরে রাখতে পারি না? কেন এত ধুলো জমে শহীদ মিনারে? সারা বছর কেন এত অযত্ন অবহেলা? কে দেবে উত্তর?

করোনার টিকা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে ॥ জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া একটি তথ্য এখন বেশ আলোচনায়। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের এক বৈঠকে মহাসচিব এ্যান্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের যে পরিমাণ টিকা পাওয়া যাচ্ছে তার ৭৫ শতাংশ মাত্র দশটি দেশ ব্যবহার করছে। এখন পর্যন্ত ১৩০টি দেশ এক ডোজ টিকাও পায়নি। তার তথ্য মতে, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গঠন করা কোভ্যাক্স কর্মসূচী প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে ধনী দেশগুলো টিকাদান শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশও কোভ্যাক্স কর্মসূচীর টিকার জন্য অপেক্ষা না করে তা কেনার জন্য প্রাইভেট চুক্তি স্বাক্ষর করতে ছুটছে। এবং এ জায়গা থেকে দেখলে স্বীকার করতেই হবে ভীষণ ভাল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে বহু মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দিতে সক্ষম হয়েছে সরকার। ঢাকার প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে টিকা দেয়া হচ্ছে। টিকা নিয়ে রাজধানীবাসীর আগ্রহ এখন তুঙ্গে। গত কয়েক দিনে একাধিক টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএইচ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দল বেঁধে আসছেন। টিকা গ্রহণ করছেন। সবার মাঝেই করোনা জয় করার উচ্ছ্বাস। তাদের কেউ কেউ বলছিলেন, টিকা যে নিলাম, টেরই পেলাম না! সাধারণ মানুষও একই কথা বলছেন। এ কথাটি প্রায় সবার মুখেই শোনা যাচ্ছে এখন। নিজের অভিজ্ঞতাটিও এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে। টিকা গ্রহণ করার সময় আমার নিজেরও কোন ব্যথা অনুভব হয়নি। সুচ ফোটানো হলো। কিন্তু টের পাওয়া গেল না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই টিকাদান সম্পন্ন! এত যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়। তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়নি আমার বেলায়। বলা যেতে পারে, এসব কারণেও আগ্রহ বেড়েছে টিকায়। এভাবে চললে কোভিড মোকাবেলায় আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাক সোনার বাংলা।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।