বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্নন গলি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১১ ডিসেম্বর ২০২০, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 64 বার
বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্নন গলি

পদ্মার ওপর সত্যি সত্যি একটা সেতু হয়ে গেল! নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় কাজ দেশে আগে কোনদিন হয়নি। কল্পনারও যা অতীত ছিল, বাস্তবে তা-ই সম্ভব করে দেখালেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিজয়ের মাসে বাঙালী শুধু একটি সেতু পেল না, আত্মবিশ^াসে আরও বেশি বলিয়ান হয়ে উঠল। বিশ^ব্যাংকের নোংরা রাজনীতি ও অপবাদ পেছনে ফেলে স্পষ্টতই সামনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। হ্যাঁ, ঢাকাজুড়ে এখন সেই আলোচনা। কাজে নামার আগেই যারা বলেছিলেন দুর্নীতি হয়ে গেছে বড়, তাদের মুখে এখন আর কোন রা নেই। উন্নয়নবিরোধী অপশক্তি গাল ফুলিয়ে আছে। তবে দেশপ্রেমিক মাত্রই খুশি। অনেকে তো রাজধানী থেকে সদলবলে পদ্মা সেতু দেখতে ছুটে যাচ্ছেন। পদ্মাপাড়ের উৎসবে যোগ দিচ্ছেন তারা। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন সরকারপ্রধানকে।

একই সময় এসেছে আরও একটি ভাল খবর। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হবে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলের। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু আগামী বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। মহাআনন্দের ক্ষণ উদ্যাপনে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে মেট্রোরেলের। নতুন লক্ষ্যে ঠিক করার পর নবোদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ২০১২ সালের এই ডিসেম্বর মাসেই ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। সে অনুযায়ী, উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে উড়াল রেলসেতু নির্মাণ শুরু হয়। জানা যাচ্ছে, অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক গড় অগ্রগতি ৫২ দশমিক ২৪ শতাংশ। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক জানাচ্ছেন, লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে সমস্ত পরিকল্পনা ঢেলে সাজানো হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকদের অনেকে নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। আটকা পড়েছিলেন সেখানে। বিশেষ ফ্লাইটের তাদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে কাজে ফিরেছেন প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক। তাদের জন্য প্রকল্প এলাকায় কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছন। সব মিলিয়ে গতি বেড়েছে কাজের। এদিকে গত বছর এপ্রিলে জাপানে শুরু হয়েছে যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণের কাজ। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর ডিপোতে পৌঁছে মেট্রোরেলের মকআপ ট্রেন। ছয়টি যাত্রীবাহী কোচ সংবলিত প্রথম মেট্রো ট্রে সেট এবং দ্বিতীয় ট্রেন সেটের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে জাপানে শেষ হয়েছে। জাপানের একটি কারখানায় আরও তিনটি মেট্রোরেল সেট তৈরির কাজ চলছে বলে জানা যাচ্ছে। এভাবে সব ঠিক থাকলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ঠিক দৃশ্যমান হবে মেট্রোরেলের মতো সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবহন। আপাতত অপেক্ষার পালা।

শেষ করা যাক আসন্ন বিজয় দিবসের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে বিজয় দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে এবার। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ও বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। এবার তা আর হচ্ছে না। তবে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মোটামুটি সরব থাকবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী বিজয় উৎসব আয়োজন করবে সম্মিলিন সাংস্কৃতিক জোট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ১৪ ডিসেম্বর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে। ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর থাকবে গান কবিতা নৃত্যায়োজন। এর বাইরে ভার্চুয়ালি প্রচুর অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তারও আগে শহর ঢাকার বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে। লাল সবুজ মরিচবাতি দিয়ে ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে কোন কোন ভবন। চারপাশে উড়তে শুরু করেছে জাতীয় পতাকা। বিজয়ের আনন্দটা এভাবে ক্রমশ প্রকাশিত হবে। আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি একাত্তরে অস্ত্র হাতে লড়াই করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাবে বাঙালী। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। আর ধিক্কার জানাবে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তির প্রতি। অন্ধকারের শক্তিকে প্রতিহত করার ঐক্যবদ্ধ শপথ নেবে রাজধানীবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।