বাড়ছে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুর সংখ্যা – U.S. Bangla News




বাড়ছে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুর সংখ্যা

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ৮ এপ্রিল, ২০২৩ | ৫:১৯
এক মাস আগে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা আয়েশা খাতুন। দুই সপ্তাহ পর হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন তাঁর সন্তানের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত ঘেমে যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, গর্ভে থাকাকালে শিশুর হৃদযন্ত্রে গঠনগত সমস্যা হয়েছিল। এটি জন্মগত ত্রুটি। রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা সাদিয়া পারভীন এক সপ্তাহ আগে এক দিন বয়সী সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তাঁর সন্তান প্রসবের সময় জোরে কান্না করে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটিকেও জন্মগত ত্রুটি বলছেন। মূত্রনালির রাস্তা বন্ধের কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার সার্জারি প্রয়োজন। আয়েশা ও সাদিয়ার সন্তানের মতোই দেশে ৭ শতাংশ শিশু

জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসছে। সম্প্রতি বিএসএমএমইউরনবজাতক বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি জরিপে এ তথ্য উঠে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, অসংক্রামক রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাল্যবিয়ে বা দেরিতে বিয়ে, তেজস্ক্রিয়তা, অপুষ্টি, গর্ভকালে চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়া, অসচেতনতা, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে, হাসপাতাল কিংবা মাতৃসদনের বাইরে সন্তান প্রসবসহ নানা কারণে দেশে বাড়ছে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুর সংখ্যা। দ্রুত শনাক্ত ও যথাযথ চিকিৎসা নিলে এসব শিশুর দুই-তৃতীয়াংশই সুস্থ জীবনে ফিরতে পারে। তবে অনেক শিশুর একাধিক সমস্যা থাকায় চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ছাড়ে। বাংলাদেশে কত সংখ্যক শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে, তা দেখতেই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বিএসএমএমইউ। দেশের ২০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও

ইনস্টিটিউটে জরিপটি চালানো হয়। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৮ বছর ধরে চিকিৎসা নিতে আসা ১১ হাজার ২৩২ জনের ওপর এ জরিপে দেখা যায়, এসব চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে নানা শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ শিশু। তিন পদ্ধতিতে এসব ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। খালি চোখে, যন্ত্রপাতি দিয়ে এবং নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। তবে এ জরিপে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে জন্ম নেওয়া ৪০ শতাংশ শিশু ও কমিউনিটি পর্যায়ে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য আসেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটিকে ৪ নম্বর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির হিসাবে বিশ্বে প্রতি ১০০ নবজাতকের মধ্যে অন্তত ৬ শতাংশ জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। বছরে

লাখ লাখ শিশু মারা যায় এ কারণে। তবে বাংলাদেশে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে কত শিশু জন্ম নেয়, তার সঠিক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। সবচেয়ে কম জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মায় জাপানে, ১ দশমিক ০৭ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৫০ শতাংশ জন্মগত ত্রুটির কোনো ব্যাখ্যা নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মগত ত্রুটির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর শুধু জন্মগত ত্রুটির জন্য এ অঞ্চলে জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ শিশু মারা যায়। শিশু মৃত্যুর এই প্রভাব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিএসএমএমইউর জরিপে দেখা যায়, শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুদের একটি বড় সংখ্যক এসেছে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে। জন্মগত

ত্রুটিযুক্ত ছেলে ও মেয়ের সংখ্যা প্রায় সমান। বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে আসা এ ধরনের শিশুদের মধ্যে কতজন মারা গেছে, এ তথ্য রাখেনি প্রতিষ্ঠাটি। চিকিৎসদের অনুমান বলছে, ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু চিকিৎসা না পেলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের মৃত্যু হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কিছু জন্মগত ব্যাধি অস্ত্রোপচার কিংবা এবং সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যেতে পারে। যেমন– ফাটা ঠোঁট, তালু ও হার্নিয়া। তবে হার্টের ত্রুটি, নিউরাল টিউব ত্রুটি এবং ডাউন সিনড্রোমসহ কিছু সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিএসএমএমইউর জরিপের সঙ্গে যুক্ত একাধিক চিকিৎসক জানান, সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে এমন ত্রুটিযুক্ত নবজাতক শনাক্ত হার

অনেকগুণে বাড়বে। কিছু জন্মগত ত্রুটি যেমন কানের ফুটো না থাকা, ঠোঁট ও তালু কাটা, হাত ও পায়ের সমস্যা, পায়ুপথ ও মূত্রনালির রাস্তা বন্ধ থাকা– এসব সমস্যা মা-বাবারা দেখলেই বুঝতে পারবেন। খাওয়ার পর বারবার বমি করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, নীল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে শিশুর সমস্যা হচ্ছে। এ সময় চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। বিএসএমএমইউর নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, জন্মগত ত্রুটি নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই হার্টের সমস্যায় ভোগেন। সম্প্রতি আরও একটি গবেষণায় এর সপক্ষে প্রমাণ মিলছে। এতে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসার ত্রুটিযুক্ত শিশুর ১৪ শতাংশের হার্টে জন্মগত সমস্যা ছিল।

এ ছাড়া খাদ্যনালিসংক্রান্ত জটিলতা যেমন হার্নিয়া, কিডনি ও মূত্রনালির সমস্যায় আক্রান্ত। এসব ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে ৭০ শতাংশ জন্মগত ত্রুটি সারিয়ে তোলা যায়। তবে একসঙ্গে অনেকগুলো বিভাগ মিলে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরে এমন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। শিশুর জন্মগত ত্রুটি রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থাতেই নির্ণয় করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও ৫০ শতাংশ প্রসূতি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান না। তিনি আরও বলেন, ত্রুটিযুক্ত শিশুর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সার্জারির প্রয়োজন হয়। তবে ওটি মিলতে দীর্ঘ সময় লাগে। এমন শিশু চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞও সংকট রয়েছে। এখনই এসব বিষয়ে সরকারের

বিশেষ নজর দিতে হবে। অনেক সময় ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুর চোখ, মুখ, কান, মূত্রনালি পরীক্ষা করলে জন্মগত ত্রুটি দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব। তবে এ জন্য চিকিৎসক-নার্সদেরও প্রশিক্ষণের দরকার। বিএসএমএমইউর শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ত্রুটিযুক্ত শিশুর হার কমাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী গর্ভধারণ, গর্ভকালীন চেকআপ, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের সঠিক পরিচর্যা– এগুলো ধাপে ধাপে নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত ও পরিকল্পনা প্রণয়নে বড় ভূমিকা পালন করে গবেষণা। এর মাধ্যমে জানা যায় মূল সমস্যা কোথায়। গবেষণায় জোর দিতে হবে। বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ত্রুটিযুক্ত শিশু জন্মানোর অনেক কারণ থাকতে পারে। পরিবেশদূষণ ও খাদ্যাভ্যাস দায়ী

হতে পারে। জিনগত সমস্যা, দেরিতে বিয়ের কারণেও এটি বাড়তে পারে। তবে এগুলো জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আগামী বছর এ বিষয়ে গবেষণা করা হবে। ক্রটি নিয়ে শিশু জন্ম প্রতিরোধে এ জরিপে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। যেমন– ত্রুটিযুক্ত শিশু শনাক্তে জেলা পর্যায়ে জেনেটিক ল্যাব স্থাপন, পরিকল্পনা করে গর্ভধারণ, আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে কমিয়ে আনা, প্রতিষ্ঠানিক প্রসব এবং সচেতনতা বাড়ানো।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গাজায় আশ্রয় শিবিরে ইসরাইলের হামলা, নিহত ১১ শোকের শহরে আনন্দ মিছিল করল ছাত্রদল জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটি গঠন পুলিশ ছাড়া একদিন রাস্তায় আসেন দেখি কেমন পারেন: ফারুক সরকার জুলুম করতে পারে, জিনিসের দাম কমাতে পারে না: মান্না ইউক্রেনে ‘আত্মহত্যার বাঁশিওয়ালা’ দেশে ফিরে স্ত্রী ও মেয়ের লাশ গ্রহণ করলেন পোল্যান্ড প্রবাসী মালয়েশিয়ায় কাজ না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ৩৪ হাজার বার্গার খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের’ সুফল পেতে বাড়াতে হবে কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম বেইলি রোডে আগুন: সন্দেহজনক ২ পাইপলাইন গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলল যুক্তরাষ্ট্র ঢাকার ৯০ শতাংশ ভবনে নকশার বিচ্যুতি সড়ক পরিবহণ আইনের আওতায় মালিকদের আনার প্রস্তাব ডিসিদের শনাক্তের পরও মিনহাজের লাশ পেতে ভোগান্তি দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন ৬১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা স্বাধীনতার ইশতেহারে কাস্টমসের হয়রানিতে আমদানি শূন্য বইমেলার শেষ দিনে ভিড় বিক্রি দুই-ই কম