বাংলাদেশে সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে পরিচালিত:রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে পরিচালিত:রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা

১৯ ফেব্রæয়ারি ২০২১, নিউইয়র্ক:
“কোভিড-১৯ অতিমারিজনিত সঙ্কটে সবচেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে অভিবাসী শ্রমিকগণ। এটি আমাদের সমাজ ব্যব¯’ায় বিদ্যমান অসমতা ও বৈষ্যমেরই প্রকাশ। পিছনে পড়ে থাকা মানুষদের জন্য কর্মসং¯’ানসহ অন্যান্য সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন” – গতকাল ‘বিদ্যমান অসমতা: এসডিজি’র কার্য-দশকে সকলের জন্য বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও বৈষম্য দূরীকরণ’ শীর্ষক অর্থননৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) উ”চ পর্যায়ের এক বিশেষ সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের ¯’ায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
রাবাব ফাতিমা বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারি সমাজের সকল স্তরকেই নাড়া দিয়েছে। এরফলে বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ, বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্যসহ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দূরাব¯’ার সৃষ্টি হয়েছে। ‘কেউ পিছে পড়ে থাকবে না’-এই লক্ষ্য অর্জনে কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলার বিষয়টিকে অবশ্যই সামগ্রিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি।
সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিশ্রæতির উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন যেখানে সমাজের সবচেয়ে নাজুক অংশকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি’র প্রায় ৩.৭ ভাগের সমান ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বাইরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যব¯’ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যেখানে নারী, অতিদারিদ্র্য, ভ্রাম্যমান জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য দূর্দশাপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ ও অন্যান্য বৈষম্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক স্বা¯’্য ব্যব¯’া নিশ্চিতে বিনিয়োগ করতে হবে মর্মে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের ¯’ায়ী প্রতিনিধি। আর এই বিনিয়োগের শুরু হতে পারে জাতি, মর্যাদা বা জাতীয়তা নির্বিশেষে সকলের জন্য কোভিড ভ্যাকসিনগুলোর সার্বজনীন প্রাপ্যতার সুযোগ তৈরি করার মধ্য দিয়ে।
সকল অংশীজনদের আন্তরিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দারিদ্র্য, সহিংসতা, বৈষম্য, বর্জন এবং শিক্ষা ও কর্মসং¯’ানের অভাবসহ অসমতার মূল কারণগুলো সমাধান করার আহŸান জানান। তিনি শিক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন যা সুযোগ ও সম্ভাবনা এনে দেয় এবং বর্ণবাদের দুষ্টু চক্র ভাঙ্গতে মানুষকে সহায়তা করে। তিনি কোভিড-১৯ এর সময়ে ডিজিটাল সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার কারণে অনেক শিশুর পড়াশুনা থেকে দূরে থাকতে হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে সকলকে আরও বেশী মনোযোগী হওয়ার আহŸান জানান।
রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ব্যতিত বর্ণবাদের মতো সামাজিক কূফলগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয় কারণ এগুলো সমাজের গভীরে প্রোথিত। অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই ভিত্তিমূলে প্রতিষ্ঠিত-এমন একটি নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহŸানের সাথে একাত্ত¡তা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বহুমাত্রিক ধরণ নির্মূলে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদেরকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে।
ইভেন্টটির আয়োজন করে ইকোসক। এতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ উ”চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।