বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার দেশের এক তৃতীয়াংশ শিশু – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১ আগস্ট, ২০২৫
     ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার দেশের এক তৃতীয়াংশ শিশু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ আগস্ট, ২০২৫ | ৬:৩১ 112 ভিউ
বাংলাদেশের প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় তিনজন (২৮ দশমিক ৯ শতাংশ) বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিসেফ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ হার দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী প্রাপ্তবয়স্কদের হারের (২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ) চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শিশুরা বাংলাদেশে বিদ্যমান দারিদ্র্যের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। ইউনিসেফ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহাযোগিতায় এই সূচক প্রকাশ করেছে জিইডি। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে শিশুরা যেসব বঞ্চনার শিকার হয় এবং যা প্রতিনিয়ত তাদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে ব্যাহত করে চলেছে, সেসব অবিলম্বে মোকাবিলার

প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, এমপিআই-এ একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে দারিদ্র্য পরিমাপ করা হয়, যেখানে শুধু আয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং শারীরিক দুর্বলতা বা খারাপ স্বাস্থ্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব, অপর্যাপ্ত পুষ্টি, অনিরাপদ জীবনযাপন বা থাকার ব্যবস্থা ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাসমূহের অভাব - এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। এসব সূচকের অন্তত দুটি দ্বারা প্রভাবিত হলে তাকে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসরত বলে বিবেচনা করা হয়। এমপিআই অনুযায়ী, সার্বিকভাবে বাংলাদেশে তিন কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। অর্থনৈতিক দারিদ্র্য ও খর্বকায় শিশুর সংখ্যা হ্রাসে অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশে বহুমাত্রিক শিশু দারিদ্র্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের

তুলনায় শিশুদের বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ বেশি। এছাড়াও গ্রামীণ এলাকার শিশুরা শহরাঞ্চলের শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাত্রায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে। এমপিআই-এ স্কুলে উপস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিশুর শিক্ষা-সংক্রান্ত বঞ্চনাগুলো শিশুদারিদ্র্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালক। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘যখন দারিদ্র্যের একাধিক মাত্রাগুলোকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়, তখন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদারিদ্র্য প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর সূচনা হয় শিশুদের যে সব ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হতে হয়, তার প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ‘ তিনি আরও বলেন, ‘এমপিআই’র সৌজন্যে এখন আমাদের হাতে একটি কার্যকরী টুল (উপকরণ) আছে, যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কোথায়

এবং কীভাবে শিশুদারিদ্র্য বাংলাদেশের শিশুদের জীবনে প্রভাব ফেলছে; পাশাপাশি আমাদের এখন একটি প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে, যা ব্যবহার করে ভবিষ্যতে শিশুদের বহুমাত্রিক বঞ্চনা মোকাবিলায় অগ্রগতি মূল্যায়ন করা যাবে।’ প্রতিবেদনে অঞ্চলভিত্তিক দারিদ্র্য বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে। দেশের পাঁচটি জেলা বান্দরবান, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি ও ভোলার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার রয়েছে বান্দরবানে (৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ)। আর দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে সিলেট বিভাগে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি এবং ভোলায় বিদ্যমান উচ্চমাত্রার বহুমাত্রিক দারিদ্র্য, পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগের একটি আঞ্চলিক দারিদ্র্য-ক্লাস্টার বা দারিদ্র্যের ঘনত্বের ইঙ্গিত দেয়। শিশু দারিদ্র্য

চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো পূর্বাঞ্চলের অঞ্চলগুলোতে বেশি। অপরদিকে অর্থনৈতিক দারিদ্র্য উত্তরাঞ্চলে বেশি। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো এর অন্তর্নিহিত কারণগুলো উদঘাটন করা। আমাদের প্রতিটি সূচকের গভীরে যেতে হবে, বুঝতে হবে কীভাবে এবং কেন তা সামগ্রিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে প্রভাব রাখছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিভিন্ন খাতে সমন্বয়ের ঘাটতি ও দুর্বলতা এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতার মতো বিষয়গুলো, বহুমাত্রিক শিশু দারিদ্র্য মোকাবিলার জন্য যে জরুরি বিনিয়োগ প্রয়োজন তা সীমিত করছে। আর এর ফলে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর অ্যান্ড অ্যাক্টিং হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এডউইন কুককুক

বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য এটি অত্যাবশ্যক যে দেশের সব মানুষ— বিশেষ করে যারা এখনও দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে আছে, তারা সমান সুযোগ ও মর্যাদা লাভ করবে। এর জন্য অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী উভয় ধরনের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। অন্য দেশগুলোর সমন্বিত অ্যাপ্রোচ (পদ্ধতি) থেকে প্রাসঙ্গিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব উদ্ভাবন- যেমন বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগের মূল্যায়ন ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেদনটি আমাদের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। আসুন আমরা সবাই— সরকার, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং জনগণ—একত্রে কাজ করি, যাতে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে আরো সমতাভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় একটি দেশ যেখানে পিছিয়ে থাকবে না কেউ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ভোটার ছিল না, কিন্তু ভোট ছিল গণনার টেবিলে: শেখ হাসিনা জুলাই সনদ’ গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও তথ্যে বড় গরমিল, এক আসনে ভোট ২৪৪% সিলেট-৫: ভোটার ২৫৩৮, ভোট পড়ল ২৭৫৪! ফলাফলে ‘১০৮ শতাংশ’ ভোটের নজির ভোটের আগেই সিল, আগেই স্বাক্ষর— ভোটার ছাড়াই বৈধতার নাটক গত ১৫ বছর বিরোধী দলের ওপর আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের কারণে জামায়াতের উত্থান ঘটেছে- মির্জা ফখরুল প্রতারণা-প্রহসনের নির্বাচন জননেত্রী শেখ হাসিনার বিবৃতি ‘ভোটার ছিল না ভোটকেন্দ্রে; কিন্তু ভোট ছিল গণনার টেবিলে! সর্বনিম্ন ভোটার টার্ণআউট, ফাঁকা ভোটকেন্দ্রগুলো, আওয়ামী লীগের আহ্বানে বিপুল সংখ্যক মানুষের নির্বাচন বর্জন আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়: দেশের ভবিষ্যৎ ও দলের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সজীব ওয়াজেদ জয় আমি ঘরের মেয়ে ঘরেই আছি আমার ঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়া- রুমিন ফারহানা ইউনুসের সুষ্ঠু নির্বাচনের নমুনা ⁨নোয়াখালিতে পোলিং অফিসার নিজেই ব্যালটে সিল মারছেন ⁨সবচেয়ে বাজে কারচুপির নির্বাচন হয়েছে – জনগনের ক্ষোভ ভোট শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা পূর্বে কেন্দ্রদখল করে ব্যালট ছিনতাইয়ের পর ধানের শীষ মার্কায় সিল জনগণের সমর্থন না পেয়ে ক্ষমতা দখলের নগ্ন প্রয়াস! ভোটের আগেই সিল, আগেই স্বাক্ষর— ভোটার ছাড়াই বৈধতার নাটক! ইউনুস–জামাত–বিএনপির নীলনকশার গণপ্রহসন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ: সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জামায়াতে ইসলামীর, ১৫০ আসনে পুনর্নির্বাচনের দাবি রাজনীতিতে আসা নিয়ে যা বললেন সজীব ওয়াজেদ জয় ব্যালট বিপ্লবে ‘অনুপস্থিত’ শেখ হাসিনারই জয়: ৫২ শতাংশ মানুষের ভোট বর্জনে প্রমাণিত, তাকে ছাড়া বাংলাদেশ অচল The Political Lens By RP Station ব্যালট বিপ্লবে ‘অনুপস্থিত’ শেখ হাসিনারই জয়: ৫২ শতাংশ মানুষের ভোট বর্জনে প্রমাণিত, তাকে ছাড়া বাংলাদেশ অচল প্রশ্নের মুখে ২০২৬-এর নির্বাচন ৮ শতাংশের ভোটকে ৬০ শতাংশ দেখানোর ‘ভুতুড়ে’ কারসাজি প্রতি মিনিটে ১২ ভোটারের উপস্থিতি দেখাল ইসি