বরফঢাকা কানাডায় বাঙালিদের রমজান-ইফতারি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২ মে ২০২১, ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
বরফঢাকা কানাডায় বাঙালিদের রমজান-ইফতারি

বরফাচ্ছন্ন কানাডার প্রায় ৮ মাসই বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এ বছর রমজান মাসের শুরুতেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। করোনা আর প্রচণ্ড বৈরি আবহাওয়াতেও ম্লান করতে পারেনি প্রবাসী বাঙালিদের ইফতার আয়োজন।

বাংলাদেশের মতো এখানেও বাঙালিরা ছোলা মুড়ি মেখে মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। ইফতারের এ আয়োজনে আরও থাকে পেঁয়াজি, কলা, আলুর চপ, জিলাপি, খেজুর, চিকেন হালিম আর শরবত। বিশেষ খাবার হিসেবে কমলা, আঙুর, আপেলসহ নানা দেশের বৈচিত্র্যময় ফল। বাংলাদেশী হোটেলগুলোতেও বেচাকেনা চলছে জমজমাট ইফতারিসহ খিচুরি ও বিরিয়ানি।

প্রবাসী মুসলিম বাঙালিরা কানাডায় থাকলেও ভুলে যায়নি তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির কথা। বিগত বছর গুলোতে তার প্রতিফলন ঘটতো তারাবির নামাজের সময় যখন ছোট ছোট শিশু কিশোররা অভিভাবকদের সঙ্গে মসজিদে আসতো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে এখন তা আর হচ্ছে না।

ক্যালগেরিতে বাঙালিদের রয়েছে নিজস্ব একটি মসজিদ। কিন্তু গত দুই বছর কোভিড-১৯ এর কারণে গৃহবন্দি আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মসজিদের রূপ ভিন্ন আকার ধারণ করেছে। দূরত্ব বজায় রাখা আর সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ মানতে যেয়ে অনেকটাই স্থবির বিভিন্ন কার্যক্রমের। মসজিদে সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতারি করা আর হচ্ছে না।

বিগত বছর গুলোতে প্রবাস জীবনের যান্ত্রিকতাময় দিনগুলোতে ইফতার আর তারাবি নামাজ শেষে এই সময়টাতে প্রবাসী বাঙালিরা মিলিত হতো একে অপরের সঙ্গে। পুরো পরিবেশ পরিণত হতো এক ভিন্ন ইমেজের। কিন্তু গত দুই বছর এর চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। এশিয়ান এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই মিলে যখন মসজিদটিতে মিলিত হতো তখন মনে হতো যেন একখণ্ড বাংলাদেশ। করোনা মহামারি যেন সবকিছু ম্লান করে দিয়েছে।

এরোমা ইন্টারন্যাশনাল এন্ড প্রিমিয়াম ক্লাসিকের ডিরেক্টর আতিকুল ইসলাম কলিন্স বললেন, মসজিদে গত দুই বছর যাবত আমরা বাংলাদেশের আমেজে ইফতারি এবং তারাবির নামাজ আদায় করতে পারছি না। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে ইফতারি এবং তারাবির নামাজ বাসায় আদায় করছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ যেন এই মহামারি থেকে সারা বিশ্বের উম্মাহর যেন হেফাজত দান করেন এবং আগের মতো রমজান পালন করার তৌফিক দান করেন।

স্বদেশী বাজার ফুডস এন্ড ক্যাটারিংয়ের স্বত্বাধিকারী নাজমুল আহসান বললেন, বাংলাদেশের স্বাদের সব ধরনের খাবার এখানে পাওয়া যাচ্ছে। এই রমজানে ইফতারি আইটেমসহ বিরানি, তেহারি এবং লাচ্ছিরও ব্যবস্থা রয়েছে।

উৎসব সুইটস এন্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. ফিরোজ ইফতেখার বললেন, আমরা আমাদের রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশের স্টাইলে শাহী হালিম, শাহী জিলাপি, বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপ, ছোলা এবং অন্যান্য আইটেম বিক্রি করে থাকি।

ক্যালগেরি প্রবাসী সৈয়দা রওনক জাহান বললেন, আমরা কঠিন এক সময় অতিবাহিত করছি। অনেকেই ইতোমধ্যেই তাদের আপনজনদের হারিয়েছেন। পবিত্র রমজান মাসে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের এই মহামারি থেকে মুক্তি দিবেন এটাই আমাদের প্রার্থণা।

সিয়াম সাধনার এই মাসে সংযম আর আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে যাবতীয় ভোগ বিলাস, অন্যায়, অপরাধ, হিংসা, বিদ্বেষ, সংঘাত পরিহার করে ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনে বয়ে নিয়ে আসবে শান্তির বার্তা ক্যালগেরিতে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের এমনটাই প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।