ফ্রান্সের হরটিলোনেজেস শহরের বুকে ‘একখণ্ড স্বর্গ’

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৪ আগস্ট ২০২২, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের হরটিলোনেজেস শহরের বুকে ‘একখণ্ড স্বর্গ’

চারপাশে পানি, মাঝখানে উদ্যান। গাছে গাছে হরেক রঙের ফুল। পাখির কূজন। উদ্যানগুলো যেন একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। নিস্তরঙ্গ পানিতে ছোট ছোট নৌকা। এসব নৌকায় চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় ‘ফুলের স্বর্গে’। মাঝেমধ্যে ছোট-বড় কাঠের সেতু। অনেকে সেগুলো ব্যবহার করেও পৌঁছে যান ভাসমান উদ্যানগুলোয়। এগুলোর সৌন্দর্য পর্যটকের মধ্যে মুগ্ধতা ছড়ায়। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের প্রাচীন শহর এমিয়েন্সের হরটিলোনেজেস যেন শহরের বুকে ‘একখণ্ড স্বর্গ’।

রাজধানী প্যারিস থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তরে এমিয়েন্স শহর। একে উত্তরের ভেনিসও বলা হয়। মূলত হরটিলোনেজেসের কারণেই এ নামকরণ। এটি পর্যটকের জন্য দারুণ এক গন্তব্য। ছোট ছোট নালা দিয়ে নৌকায় করে ভ্রমণকালে তাঁরা দুই পাশের দৃশ্য উপভোগ করেন। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় বাগানের ফুল। প্রায় ১ দশমিক ৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে এসব ভাসমান উদ্যান। ছোট নৌকা নিজে নিজে চালিয়েই উপভোগ করতে হয় সৌন্দর্য। দেখা মেলে ঝাঁক ঝাঁক রাজহাঁসের। এসব হাঁস এই আছে তো এই নেই। কিছু হাঁস ডুব দিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়! পানিতে ফুটে আছে পদ্মফুল। শত প্রজাতির পাখির বিচরণ এ হরটিলোনেজেসে।

মূলত শান্ত-সৌম্য নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এসব ভাসমান উদ্যান। এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে নদী। সেখান থেকে শিরা-উপশিরার মতো আরও কয়েকটি উপনদী। এসবের কোনো কোনোটি ৪০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ। মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে এগুলো। এসবের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে সুদৃশ্য উদ্যান। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, উদ্যানগুলো পানির ওপর ভাসছে। পর্যটকের জন্য হরটিলোনেজেসে বিশ্রাম ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন আছে। চাইলে রাতেও থাকা যাবে।

আরেকটি কারণে বিখ্যাত এ হরটিলোনেজেস। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎপাদিত হয় নানা শাকসবজি, ফলমূল। এগুলো বিক্রির বাজার বসে এসব বাগানেই। দূরদূরান্ত থেকে এসে লোকজন তাজা শাকসবজি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নেন। শহরের ভেতরে হলেও সেখানে নেই কোনো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্রের কোলাহল; উচ্চ শব্দ বা বায়ুদূষণও নেই। এ কারণেই হয়তো পনেরো শতকে একাদশ কিং লুইস এমিয়েন্স ভ্রমণে গিয়ে মুগ্ধতায় বলেছিলেন, ‘আমার ছোট্ট ভেনিস!’
শুধু সৌন্দর্যেই শেষ নয়, এমিয়েন্সের আছে ঐতিহাসিক গুরুত্বও। একসময় এ শহরের নাম ছিল সামারোব্রিভা। ৮৫৯ সালে রোমানরা এটির দখল নেয়। তখন তারা শহরের নাম পরিবর্তন করে রাখে আম্বিয়ানুম। পরে এটি ফ্রান্সে রোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। এর প্রমাণ হিসেবে এখনও এমিয়েন্সে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রান্সের বৃহত্তম গির্জা। এ শহর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁসহ অনেক রাজনীতিক-অর্থনীতিবিদসহ বিজ্ঞজনের জন্মস্থান। সূত্র :বিবিসি, দ্য গুড লাইফ ফ্রান্স।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।