ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৬ মে ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

মার্কেট শপিংমলের মতো রাজধানীর ফুটপাতেও ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা এই ফুটপাতের ঈদ বাজার। তারাও শামিল হচ্ছে ঈদের খুশিতে। ঢাকার মতিঝিল, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, মিরপুর রোড ও যাত্রাবাড়ীসহ প্রতিটি মার্কেটের সামনে হকাররা ঈদে পোশাকের পশরা সাজিয়ে বসেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় রাস্তায় মানুষ কম থাকলেও সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য বাহারী রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে।

সারি সারি এসব দোকানগুলো থেকে প্রতিনিয়তই পছন্দমতো জামা-কাপড় ও শার্ট কিনছেন নগরবাসী। তবে এবার দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। একাধিক ফুটপাতের ব্যবসায়ী জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল দোকান। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও শুরু করতে পেরেছেন ব্যবসা। তবে তা কতোদিন চলবে, তা নির্ভও করছে দেশের পরিস্থিতির ওপর।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, সামনে ঈদ। গত ঈদে কেনাকাটা না হওয়ায় এবার একটু চাহিদা বেশি আছে মানুষের। ঈদ যতো এগিয়ে আসবে বেচাকেনা তত বাড়বে। ইতোমধ্যেই আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বিভিন্ন বয়সীদের পোশাকসহ বিক্রি হচ্ছে শিশুদের ফ্রক, টি-শার্টসহ বাহারী পোশাক। বর্তমানে মানুষের আয় কমেছে। যারা ধনী তারা ব্র্যান্ডেড শপগুলো থেকে কেনাকাটা করেন। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে তেমন টাকা নেই। সেজন্যই বিক্রি কম। তবে ধীরে ধীরে জমে উঠেছে ফুটপাতের বাজার। ফুটপাতের মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়, টি-শার্ট ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, শাড়ি ৪৫০ থেকে দুই হাজার টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়াটার জিন্স প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

মতিঝিল এলাকার ফুটপাতের শার্ট বিক্রেতা আব্দুল হান্নান মিয়া জানান, বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে সারাক্ষণই ভিড় লেগে থাকে। বিক্রিও ভালো। বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তারাও এখান থেকে পছন্দের জামা ও প্যান্ট কেনাকাটা করেন। বায়তুল মোকাররমের সামনে ফুটপাতের ব্যবসায়ী সালাম শেখ জনকণ্ঠকে বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা সাধ্যের মধ্যে ফুটপাত থেকে পছন্দের জামা-কাপড় খুঁজে কিনে নেন।

এখানে পাওয়া যায় হরেক রকমের পোশাক। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ব্যবসা না থাকলেও এরই মধ্যে জমে উঠেছে ফুটপাতের ব্যবসা। সামনের দিনে বিক্রি আরো বাড়াবে বলে ধারণা করছেন তিনি। মতিঝিলের আমেরিকার লাইফ ইন্সুরেন্সের সামনের ফুটপাত থেকে শার্ট কিনছিলেন রিকশা চালক সাদেক হোসেন। তিনি বলেন, এ বছর জামার দাম বেশি মনে হচ্ছে। দাম যাই হোক ঘরে দুটি ছেলে রয়েছে। তাই ওদেও জন্য ৬০০ টাকা দিয়ে দুটো জামা কেনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনো নিজের জন্য কোন কেনাকাটা করা হয়নি। আরও কয়েকদিন পর হয়তো কেনা হবে। করোনার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ বেশ চাপের মধ্যে রয়েছেন। তাদেও আয়-উপার্জন কমে যাওয়ায় কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। এরপরও ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিতে সাধ্যমতো কেনাকাটা করছেন তারা। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, অইেশ ক্রেতা করোনা সম্পর্কে জানলেও মাস্ক ব্যবহার করছে না। এটা একটি সমস্যা। তবে ব্যবসায়ীরা যতটা সম্ভব মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।