প্রভুপ্রেমের সময় বয়ে যায় – U.S. Bangla News




প্রভুপ্রেমের সময় বয়ে যায়

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৩ | ৭:৪০
দেখতে দেখতে ১৮টি রোজা চলে গেছে। যারা রোজার মতো মূল্যবান নেয়ামত পেয়েও সুযোগ হেলায় নষ্ট করছে, তাদেরও গত ১৮টি দিন কেটেছে। আর যারা রমজানের আগে থেকেই ব্যাকুল-বেকারার হয়ে রোজার জন্য অপেক্ষা করেছে, গত ১৮ দিন সিয়াম, কিয়াম তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, সেহরি, ইফতার, দান-সদকায় নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছে, তাদের দিনও অতিবাহিত হয়েছে। তবে এ দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। কূলে আছড়ে পড়ার আগে আর পরে ঢেউয়ের দৃশ্য কি একই থাকে? কখনো নয়। আছড়ে পড়ার আগে ঢেউয়ের গর্জনে বুকে কাঁপন ধরে। আর আছড়ে পড়ার পর ঢেউয়ের নীরব প্রস্থান হৃদয়ে হাহাকার তোলে। যে ঢেউ বুকে কাঁপন ধরিয়েছে, সে ঢেউই খাঁ খাঁ জাগিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙেছে।

ঢেউ কিন্তু একই। তেমনই যে রমজান রহমত, বরকত জান্নাতের দুয়ার খুলে দিয়েছে, মাস শেষে যারা রমজানের ঢেউয়ে সাঁতার কাটতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক আজাবের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। একটি বিখ্যাত হাদিস থেকে জানা যায়, একদিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে রাসুল (সা.) প্রসঙ্গ ছাড়াই আমিন আমিন বলছিলেন। সাহাবিরা জানতে চাইলেন এমনটি বলার রহস্য কী? রাসুল (সা.) বলেন, জিবরাইল অভিশাপ দিয়েছে, আমি আমিন বলেছি। জিবরাইল একটি বদদোয়া করেছিল, রমজানের মতো এমন সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও যে হতভাগা নিজের গোনাহগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না, তার জন্য ধ্বংস। আমি বললাম, আমিন। (সহি ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর ৪১০।) পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আফানাজআলুল মুসলিমিনা কাল মুজরিমিন। মা লাকুম

কাইফা তাহকুমুন।’ হে মানুষ! যে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে আর যে চলেছে বাঁধনহারা হয়ে, তাদের দুজনের সঙ্গে একই আচরণ করা হবে এটি তোমরা ভাবলে কীভাবে! বড়ই আশ্চর্য তোমাদের বিবেক-বিবেচনাবোধ!’ (সুরা কলম, আয়াত ৩৫-৩৬।) আর ১২টি ঢেউ এখনো বাকি আছে। যা মিস হয়ে গেছে, তার জন্য আফসোস করো না। বরং আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করো, অন্তত আজ এ মুহূর্তে তোমার ঘুম ভেঙেছে। দোয়া করো, যারা ঘুমিয়ে আছে তাদের ঘুম যেন আল্লাহ ভাঙিয়ে দেন। এখন ঢেউ কূলে আছড়ে পড়ছে, শাওয়ালের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঢেউ মিলিয়ে যাবে। সে বড় করুণ দৃশ্য। মুমিনরা আনন্দমাখা আফসোস করবে, মুনাফিকরা করবে আফসোসমাখা আনন্দ। মুমিনরা বলবে, হায়! যদি

খোদার মেহমান কুরআনের মাসটি আরও কিছুদিন থাকত তাহলে কতই না ভালো হতো। অন্যদিকে মুনাফিকরা বলবে, বিপদ কেটে গেছে, এখন থেকে আর লুকিয়ে আড়ালে আবডালে খেতে হবে না। কত ভালো হতো যদি কখনো এমন যন্ত্রণাদায়ক মাস না আসত! আসুন সিদ্ধান্ত নিই, ঢেউয়ে আছড়ে পড়া আনন্দে শামিল হব নাকি বেদনায় মিলিয়ে যাওয়া কষ্টের নির্মমতা ভোগ করব! শেষ করার আগে মনে করিয়ে দিচ্ছি মাবুদের আয়াতখানি, ‘নিশ্চয়ই আমি তাকে পথনির্দেশনা দিয়েছি। এখন এটা তার ওপর নির্ভর করে সে কৃতজ্ঞ হবে, না অকৃতজ্ঞ হবে। আমি তো সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি শিকল, বেড়ি ও গনগনে আগুন।’ (সুরা দাহর, আয়াত ৩-৪।)
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বেইলি রোডে আগুন: সন্দেহজনক ২ পাইপলাইন গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলল যুক্তরাষ্ট্র ঢাকার ৯০ শতাংশ ভবনে নকশার বিচ্যুতি সড়ক পরিবহণ আইনের আওতায় মালিকদের আনার প্রস্তাব ডিসিদের শনাক্তের পরও মিনহাজের লাশ পেতে ভোগান্তি দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন ৬১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা স্বাধীনতার ইশতেহারে কাস্টমসের হয়রানিতে আমদানি শূন্য বইমেলার শেষ দিনে ভিড় বিক্রি দুই-ই কম পাকিস্তানে আজ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন, ৯ মার্চ প্রেসিডেন্ট ভোজ্যতেলের সাত রিফাইনারি পর্যবেক্ষণে: ভোক্তার ডিজি ঢাকা বার আইনজীবী ফোরামের ভোটের ফলাফল বাতিলের দাবি গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক সংসদে সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ১৩০০ ভবন চিহ্নিত করা হলেও ভাঙা সম্ভব হয়নি বেইলি রোডে অগ্নিকা­ণ্ড: ভবনের ম্যানেজারসহ চারজন রিমান্ডে জার্মানির বিরুদ্ধে নিকারাগুয়ার মামলা ইউক্রেনে ‘আত্মহত্যার বাঁশিওয়ালা’ গাজায় গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শোকের শহরে আনন্দ মিছিল করল ছাত্রদল ‘আমি হয়তো আর দুই বছর খেলব’