প্রতিশ্রুতির রাজনীতি, নীরবতার কমিশন তারেক রহমান, বিএনপি, এনসিপি ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার মুখোশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ

প্রতিশ্রুতির রাজনীতি, নীরবতার কমিশন তারেক রহমান, বিএনপি, এনসিপি ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার মুখোশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৭:২৯ 36 ভিউ
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতি মানেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। কখনো ফ্লাইওভার, কখনো কর্মসংস্থান, কখনো ফ্ল্যাট—সবই যেন রাতারাতি সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতির কতগুলো বাস্তবায়িত হয়, তার হিসাব রাখতে গেলে কাগজ নয়, আর্কাইভ লাগে। কড়াইল বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন করে সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোই উসকে দিয়েছেন—এই প্রতিশ্রুতি কি আইনসম্মত? না কি এটি ভোটারদের প্রলুব্ধ করার একটি কৌশল? এই প্রশ্নটিকে সরাসরি সামনে এনে দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি এটিকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এই বিতর্ক কেবল দুজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখানে কাঠগড়ায় আছে—বিএনপি, এনসিপি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রীয়

প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি: ক্ষমতা ছাড়া মালিকানা? বাংলাদেশে বস্তি পুনর্বাসন নতুন কোনো ইস্যু নয়। বিভিন্ন সরকার ঢাকার বস্তি পুনর্বাসনের নামে বহু প্রকল্প ঘোষণা করেছে—কখনো কড়াইল, কখনো করাইলসংলগ্ন এলাকা, কখনো আগারগাঁও, কখনো মোহাম্মদপুর। বাস্তবে কী হয়েছে? অনেক সময় দেখা গেছে, উচ্ছেদ হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসন হয়নি। কোথাও অস্থায়ী ঘর, কোথাও আশ্বাস—আর বাস্তবতা শূন্য। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি প্রশ্ন তোলে: তিনি কি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ফ্ল্যাট বানাবেন? নাকি এটি হবে রাষ্ট্রীয় অর্থে? যদি রাষ্ট্রীয় হয়, তাহলে তিনি কোন আইনি ভিত্তিতে সেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? নির্বাচনী আচরণবিধি স্পষ্ট—ভোটারদের আর্থিক বা বস্তুগত সুবিধার আশ্বাস দেওয়া নিষিদ্ধ। তাহলে এই বক্তব্য কি সেই সীমা অতিক্রম করেনি? বিএনপি: বিরোধী থাকলে গণতন্ত্র, সামনে এলে সুবিধা? বিএনপি বরাবরই বলে—তারা সুষ্ঠু নির্বাচন

চায়, নিরপেক্ষ প্রশাসন চায়, আইনের শাসন চায়। কিন্তু ইতিহাস বলে—ক্ষমতায় থাকাকালীন বা নির্বাচনের সময়ে তারাও প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে ব্যতিক্রম ছিল না। ঢাকার বস্তি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা—এসব বিষয় বিএনপির ইশতেহারে আগেও এসেছে। কিন্তু বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিতর্কও কম হয়নি। আজ যখন তারা বিরোধী অবস্থানে, তখন তারা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কথা বলে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—ক্ষমতায় গেলে কি এই নৈতিক মানদণ্ড বজায় থাকে? এই দ্বিচারিতা বাংলাদেশের রাজনীতির পুরোনো রোগ। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপি: নতুন মুখ, পুরোনো খেলা? নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত, প্রশাসনের নীরবতা, মিডিয়ার দখল—সবকিছুর বিরুদ্ধে বলছেন। এগুলো নতুন অভিযোগ নয়। প্রায় সব ছোট দলই বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এনসিপি কি সত্যিই এই ব্যবস্থার বিকল্প,

নাকি তারা কেবল নতুন খেলোয়াড়? রাজনীতিতে নতুন হওয়া মানেই নৈতিক হওয়া—এই সমীকরণ ইতিহাসে খুব কমই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আজ তারা ক্ষমতার বাইরেy—তাই তারা ন্যায়বিচারের কথা বলছে। কাল যদি তারা ক্ষমতার কাছাকাছি যায়—তখন কি একই ভাষা থাকবে? এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন: নীরবতা কি নিরপেক্ষতা? এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো—নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রার্থীকে শোকজ করা হয়, কিছু বক্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়। যদি এটি সত্য হয়, তবে এটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়—এটি নীতিগত ব্যর্থতা। নির্বাচন কমিশনের কাজ কেবল ভোট নেওয়া নয়। তার দায়িত্ব হলো—সমান মাঠ নিশ্চিত করা। কিন্তু যদি মাঠ ঢালু হয়, তাহলে সেটাকে আর খেলা বলা যায় না—ওটা নাটক। মিডিয়া: সত্যের দর্পণ, না শক্তির স্পিকার? বাংলাদেশে

মিডিয়ার ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। কখনো তারা ক্ষমতার পক্ষে, কখনো বিরোধীর পক্ষে। কিন্তু গণতন্ত্রে মিডিয়ার কাজ প্রশ্ন তোলা, পক্ষ নেওয়া নয়। আজ যখন বলা হচ্ছে—“মিডিয়া দখল হয়ে গেছে”—তখন সেটি শুধু অভিযোগ নয়, এটি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। কড়াইল: নাগরিক নয়, প্রতিশ্রুতির পোস্টার এই পুরো রাজনৈতিক বিতর্কে সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে—কড়াইলের মানুষ। তারা প্রতিবারই রাজনীতির আবেগী উপকরণ। আগুন লাগলে খবর। ভোট এলে প্রতিশ্রুতি।u তারপর আবার অদৃশ্য। এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা। - এই নির্বাচন কি সত্যিই প্রতিযোগিতা? এই বিতর্ক একটাই কথা স্পষ্ট করে— এটা আর নীতি বনাম নীতির লড়াই নয়। এটা শক্তি বনাম নিয়মের লড়াই। যেখানে— • প্রতিশ্রুতি আইনকে ছাড়িয়ে যায় • কমিশন নীরব থাকে • দলগুলো সুবিধামতো নৈতিক হয় • জনগণ ব্যবহৃত হয় এটা কি সত্যিকারের নির্বাচন? নাকি

ক্ষমতার জন্য সাজানো মঞ্চ?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মব সন্ত্রাসের মহোৎসবে জুলাই দাঙ্গার ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ ইউনুসের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের নমুনা দেখুন ফরিদপুরে হাসপাতালে বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলা বিএনপির মামলায় কারাবরণ; চিকিৎসা বিলম্বে কেটে ফেলতে হলো পেকুয়ার নাজিমুদ্দিনের পা নির্বাচনী কারসাজির নয়া কায়দা : ইউনুসের পঞ্চান্ন হাজার ভুয়া পর্যবেক্ষক বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছে যেন আপন ভাইয়েরও নিস্তার নেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নাকি জামায়াতের ভোটব্যাংক সাজানোর খেলা? নির্বাচনে ৯৫ শতাংশ প্রবাসী সাড়া দেননি, কারাগারে ৯৩ শতাংশ ১৭ বছরে পেয়েছি মেট্রো ও মডেল মসজিদ, আর এখন দেখছি চোর ও অপদার্থের রাজত্ব’—দুই আমলের তফাত টেনে ভাইরাল ভিডিও বার্তা গণভোট নয়, সংবিধান ভাঙার নীলনকশা হাতিরঝিল এক্সপ্রেসওয়ের রড চুরির একচ্ছত্র আধিপত্য ‘মাওরা সায়মন’ সিন্ডিকেটের: নেপথ্যে ভেজাল তাহের ও কাইলা হৃদয় ভোটের আগে অরক্ষিত সীমান্ত: ‘জিরো টলারেন্স’-এর বুলিতে ঢাকা পড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি “হ্যাঁ–না ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত। এখন চলছে ভোটের নামে এক প্রহসন।” — জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক ৫ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনের নামে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না যে জাতি তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ভুলে যায়, সেই জাতি নিজের জন্মকেই অস্বীকার করে ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া জেলখানার মাইকে ভেসে এল বাবা হওয়ার সংবাদ: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কারাজীবনের নির্মম আখ্যান পরিচয় ফাঁসের আতঙ্ক: পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বিমুখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ৭০৭ আইনজীবীর বিবৃতি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে আইনি কৌশলে মাঠের বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’: মাইকেল রুবিন