পাকার আগেই ধানে চিটা – U.S. Bangla News




পাকার আগেই ধানে চিটা

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ৭ এপ্রিল, ২০২৩ | ১০:২২
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকশ কৃষকের জমির পুরো ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। ব্রি-২৮ জাতের এসব নষ্ট হওয়া ধান কেউ গরুর জন্য কেটে নিচ্ছেন, কেউ জমিতেই ফেলে রেখেছেন। এতে নিজেদের পরিবারের খাবার জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ব্রি-২৮ জাতের ধান রোপণে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, বাজারে বীজ ঘরগুলোতে গেলে উচ্চ ফলনশীল বলে তারা এ ধান তাঁদের কাছে বিক্রি করে। শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের বোরো চাষি ইউছুপ মিয়া বলেন, তিনি হাওরের নিচু অংশে ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। ধান যখন পাকতে শুরু করছে, তখন লক্ষ্য করেন তাঁর জমির সব ধান

চিটা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তিনি জানান, তাঁর নিজের গ্রাম ইউছুপুর, পার্শ্ববর্তী নোয়াগাঁও, রাজাপুর ও উত্তরভাড়াউা গ্রামের কয়েকশ কৃষকের শত শত একর জমির বোরো ধান চিটা হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক জোবায়ের মিয়া তাঁর জমির ধান দেখিয়ে বলেন, ব্রি-২৮ ধানের আবাদে তাঁরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে ১২ কিয়ার জমি চাষ করেছিলেন। সবই শেষ। এবার চাল কিনে খেতে হবে। নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক অঞ্জু কর জানান, নিজের জমি নেই। সাত বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছেন। মানুষের কাছ থেকে ঋণ করে এনে চাষ করেছেন। এখন তিনি পথে বসার উপক্রম। ইউছুপুর গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া জানান, এভাবে দুর্যোগ

আসবে তাঁরা ভাবতেও পারেননি। তিনি বলেন, পুরো ধানের ছড়ার প্রায় ৯০ ভাগ ধান চিটা। ১০ ভাগ ভালো থাকলেও কাটানো ও মাড়াই খরচ দিয়ে তা কৃষকদের ক্ষতিই বাড়াবে। যে কারণে অনেকে তা কেটে নিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, শ্রীমঙ্গলে ১১ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-২৮ আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬৫১ হেক্টর। যার মধ্যে বেশ কিছু অংশ ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়। যখন এটি প্রথম ধরা পড়ে, তখন পাতা একটু একটু মরতে শুরু করে। তখনই কৃষকদের দুই রাউন্ড ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরিয়ার পরিবর্তে পটাশিয়াম সার ব্যবহারের পরামর্শ

দেন। অনেক কৃষক এই অল্প পাতা মরায় কিছু হবে না ভেবে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেননি। কে‌উ কেউ এক রাউন্ড স্প্রে করেছেন। কিন্তু যাঁরা ঠিকমতো নিয়ম মেনেছেন, তাঁদের ফসল নষ্ট হয়নি। শ্রীমঙ্গল কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রকেন্দ্র শর্মা জানান, তাঁদের অনুসন্ধান অনুযায়ী ১৬৮ বিঘা জমিতে ব্লাস্ট রোগে আক্রমণের উপস্থিতি পান। বিষয়টি লক্ষ্য করার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের এ থেকে উত্তরণের পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী ১০০ বিঘার বেশি জমির ধান নষ্ট হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, মৌলভীবাজারের হাইল হাওর, কাউয়াদিঘি হাওর ও হাকালুকি হাওরের নিচু এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় আট হেক্টর এলাকায় বি-২৮ জাতের ধান ও বি-৪৮ জাতের ধান নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে এটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের সহায়তার জন্য সরকারের কোনো বরাদ্দ এলে তাঁরা পাবেন। এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিভিন্ন হাওরে ব্রি-২৮ ও ৮১ জাতের ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের এসব ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় শঙ্কায় রয়েছেন তাহিরপুরেরর বিভিন্ন হাওরের চাষিরা। বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের নিলু দাস মাটিয়ান হাওরে ১১ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে ব্রি-২৮ ধানের চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে তার ৩ কিয়ার জমির ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। একই হাওরে সূর্যেরগাঁও গ্রামের বর্গাচাষি কৃষক আবুল কাশেম ২০ কিয়ার জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষাবাদ

করেছিলেন। এর মধ্যে ব্রি-৮১ জাতের ৬ কিয়ার ধান চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি জানান, ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ব্রি-৮১ জাতের ৬ কিয়ার জমির ধান একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ১৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-২৮ ও ৮১-সহ উচ্চফলনশীল ধান আবাদ হয়েছে বেশি। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের কিছু কিছু এলাকায় ব্রি-২৮ ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা থাকার কারণে ২৮ জাতের ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ধানক্ষেত। তবে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে। শনির হাওর পার

উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মুক্তার আহমেদ বলেন, বর্তমানে হাওরে ধান পাকার মুহূর্তে আছে। এ সময় ধানের শিষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি তাদের ভাবাচ্ছে। তিনি জানান, শুধু ২৮ ধানেই নয়, সুবর্ণ ধানেও এ রোগ দেখা দিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা বলেন, ব্রি-২৮ ধান রোপণ না করার জন্য তাঁরা হাওর পাড়ের কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তা মানছেন না। তবে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বেইলি রোডে আগুন: যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ নেতার মৃত্যুতে প্রবাসে শোকের ছায়া বেইলি রোডের আগুন নিয়ে যা লিখেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আমাকে বাঁচাও, আমি আটকা পড়েছি’, বাবাকে শেষ কথা নিমুর বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে কিভাবে এত মানুষের মৃত্যু, জানালেন ফায়ারের ডিজি আগুন লাগা বেইলি রোডের সেই ভবনটিতে কী কী ছিল? বিপিএল ফাইনাল আজ, কার হাতে উঠছে শিরোপা? ট্রাকভর্তি লাশ, ঢামেকে যেন মৃত্যুর মিছিল প্রতি ৯৯০ জনের জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, শপথ শুক্রবার দেশে বিরল রোগ ‘এসএমএ’ রোগী ১৬৫ জন প্রেমিকাকে হত্যায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির ফাঁসি পারমাণবিক হামলার হুমকি পুতিনের ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরার সুযোগ ইতিহাসে মাত্র একবারই এসেছিল ‘৩০ ফেব্রুয়ারি’ বেইলি রোডের আগুনে নিহত ৪৪: আইজিপি আগুনে মারা গেছেন বুয়েট শিক্ষার্থী নাহিয়ান ও লামিশা বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ রাতেই হস্তান্তর ‘আর কখনও রেস্টুরেন্টে খেতে আসব না’ ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত: সিআইডি