ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব কি কারণে

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০২২, ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব কি কারণে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটো বুধবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠকে বসে। এই বৈঠকে কিভাবে রাশিয়াকে ইউক্রেনে আক্রমণ করা থেকে থামানো যায় এ নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ রাশিয়া গত কয়েকদিন ধরে প্রায় এক লাখ সৈন্য প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনের সীমান্তে মোতায়েন করে রেখেছে। যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা করতে পারে রুশ সৈন্যরা।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসবে ন্যাটোর প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো ফলপ্রসূ ফল না পাওয়া গেলে ইউক্রেনকে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে বাঁচানো কঠিন হবে।
এখন প্রশ্ন হলো ন্যাটো কে? তাদের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব কি কারণে? ন্যাটো আসলে কি চায়?

ন্যাটো হলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় সামরিক জোট। ১৯৪৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ন্যাটোর পুরো নাম নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন। এই জোটের সদস্য হলো ৩০টি দেশ। জোটটির প্রাথমিক কাজ হলো সকল সদস্যকে রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে সহায়তা করা। নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা।

১৯৪৯ সালে মাত্র ১২টি দেশ নিয়ে ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও পর্তুগাল। ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমান রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিহত করতে।

বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর দ্বন্দ্বের কারণ হলো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ন্যাটো আর কোন দেশকে তাদের সদস্য করতে পারবে না। ৩০টি দেশেই থামতে হবে। পুতিন এ বিষয়ে নিশ্চয়তা চান।

মূলত ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এটিই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে প্রতিবেশী রাশিয়াকে। ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হলে এই জোটের সেনারা ইউক্রেনে অবস্থান নিতে পারবে। যা রাশিয়ার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

ন্যাটোর সংবিধানে আছে তাদের কোনো সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা। আর এই হামলা প্রতিরোধে জোটের সব সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়বে।

ন্যাটো প্রথম কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয় ১৯৯২ সালের বসনিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে। এরপর ১৯৯৯ সালে কসোভো যুদ্ধে বিমান বাহিনীর মাধ্যমে দ্বিতীয় অভিযানে নামে তারা। আর তৃতীয় অভিযান শুরু করে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে।

২০২০ সালে নর্থ ম্যাসোডোনিয়া সর্বশেষ দেশ হিসেবে ন্যাটোতে যোগ দেয়। আর সম্প্রতি ন্যাটোতে যোগ দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে জর্জিয়া, ইউক্রেন ও হার্জেগোভিনা।

সূত্র : আলজাজিরা

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।