নাটোরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৪ আগস্ট ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
নাটোরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর ইনসানিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে পিটিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তাঁর সমর্থকরা।

বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হয়বতপুর বাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়বতপুর ইনসানিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দু’বছর আগে স্থানীয় এমপি শফিকুল ইসলাম ছাত্রলীগ নেতা ও হরিশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম মাসুমকে সভাপতি হিসেবে ডিও লেটার দিলে তিনি সভাপতি মনোনীত হন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়। বর্তমান নেতৃত্বের সমর্থকরা মাসুমকে বাদ দিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালুকে সভাপতি করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁরা এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের চাপ দিয়ে আসছিলেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহাবুবুল হাসান শরীফ অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক জাফর বরকত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু ও তাঁর সমর্থকরা মাদ্রাসায় ঢুকে জাফর বরকতকে মারধর শুরু করেন। এ সময় অন্য শিক্ষকরা ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান। এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং জাফর বরকতকে টেনেহিঁচড়ে ওই কক্ষ থেকে করে আনেন। তাঁকে পেটাতে পেটাতে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানেও তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

পরে পুলিশ ইউপি কার্যালয় থেকে শিক্ষক জাফর বরকতকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। তারা নিয়মিতভাবে ক্লাস চালু রাখার নির্দেশ দেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাফর বরকত বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত আমার রুমে গিয়ে কমিটি বদলের কথা বললে আমি তাদের বলি- এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের কোনো হাত নেই। এ কথা বলার পরই চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলেসহ সবাই আমার ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁরা আমাকে লাথি মারতে থাকেন। পরে আমাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার সময় আমার জামা-প্যান্ট ছিঁড়ে ফেলে আমাকে অর্ধ উলঙ্গ করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজাজামান কালু বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য একজন সাংবাদিক সেখানে যান। এরপর জাফর বারকত ওই সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন এবং গালাগাল করতে থাকেন। হট্টগোল শুনে আমি সেখানে গেলে ওই শিক্ষক আমার ওপরও চড়াও হন এবং আমাকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছুড়ে মারেন। এতে এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধরে আমার কার্যালয়ে নিয়ে এলে আমি পুলিশে খবর দিই।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম মাসুম বলেন, রাজনৈতিক আক্রোশের বশে নিরীহ শিক্ষকের ওপর হামলা করেছেন নুরুজ্জামান কালু। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, এ ব্যাপারে ভিকটিমকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।










আরও পড়ুন