নতুন বাস্তবতায় কম লোকবলের ছক

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১১ নভেম্বর ২০২০, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 44 বার
নতুন বাস্তবতায় কম লোকবলের ছক

তিন দলের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ চলাকালীন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলন শিবিরই বন্ধ করে দিতে হয়েছিল করোনার ধাক্কায়। সে ধাক্কা এখন প্রবাহিত শীর্ষ ক্রিকেটারদের ওপরও। গতকাল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে তামিম ইকবাল করাচির ফ্লাইট ধরলেও দিন দুয়েক আগে কভিড পজিটিভ হওয়ায় যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর। এবার টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকও আক্রান্ত হয়েছেন। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি দিয়ে যখন আরো বড় আয়োজনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), তখনই এই জোড়া আঘাত।

যদিও এমন নয় যে পৃথিবীর আর কোথাও কোনো খেলোয়াড় আক্রান্ত হচ্ছেন না। তবে এখন বাস্তবতা বদলেছে। কেউ আক্রান্ত হলেও খেলা বন্ধ থাকছে না। এই যেমন নেগেটিভ হতে ১৯ দিন লেগে যাওয়ায় বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ ক্রিস্তিয়ানো রোনালাদোকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে জুভেন্টাসকে। বিশ্বজুড়ে এ রকম আরো অসংখ্য উদাহরণও আছে। কাজেই মাহমুদ কিংবা মমিনুলদের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে খেলা অনিশ্চিত হয়ে গেলেও আসরের আয়োজন থেমে নেই। নতুন বাস্তবতায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সচেতনতার দাবিও থাকছে।

নিয়মিত হওয়া বিসিবির কভিড সতর্কতা বিষয়ক সভায় যে দাবি নিয়ে প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী সোচ্চার হন বলেও শোনা যায়। কারণ নিজেদের আঙিনায়ই যে অনেকের মাঝে সচেতনতার অভাব লক্ষ করেন। মাহমুদ আর মমিনুলের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় এবার বাড়তি সচেতনতা দেখার আশা তিনি করতেই পারেন, ‘এই অবস্থায় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। শুধু খেলা নয়, খেলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অনেক কিছুই থাকে। হোটেল, ট্রান্সপোর্ট থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, কত কিছু জড়িত। সব কিছুকে একসঙ্গে সুরক্ষিত রাখা খুব কঠিন।’

আবার শতভাগ সুরক্ষার আশাও তিনি করছেন না, ‘আপনি হয়তো ঝুঁকি কমাতে পারেন, তবে সেটিকে একদম শূন্যতে নামিয়ে আনতে পারবেন না। কাজেই যে যত বেশি ঝুঁকি কমাতে পারবে, সে তত সফল হবে।’ বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি আর এখনো চূড়ান্ত না হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে সেই ঝুঁকি যথাসম্ভব কমানোর দিকেই ঝুঁকছে বিসিবি। খেলা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে না দিয়ে হয়তো সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো যাচ্ছে। কিন্তু তাতে ক্রিকেটের আঙিনা যে নিরাপদ নয়, মাহমুদ-মমিনুলই এর প্রমাণ। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিতেও প্রাসঙ্গিক কিছু বাধা থাকছেই। দেবাশীষ যেমন শোনালেন, ‘মাঠে ১১ জন করে ২২ জন খেলছে বলে মনে হলেও পেছনে আসলে বিশাল লোকবল কাজ করছে। অদৃশ্য লোকবল বলতে পারেন। যেমন গ্রাউন্ডসম্যানই কাজ করেন ৫০ জন। হোটেলে দুটো দলের দেখাশোনায়ও ৩০ জন লোক লাগে। এখন আমি ১৫ জন রাখতে গেলে দেখা যাবে হাউজকিপিংয়ের কাজটি খেলোয়াড়দেরই করতে হবে। খেলোয়াড়রা তো আর নিজেরা রান্না করে খাবে না। কাজেই খেলা চালাতে গেলে ন্যূনতম লোক আপনার লাগবেই।’ পরিবর্তিত বাস্তবতায় এর মধ্যেও কিছু কাটছাঁট করে ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা দেখেন দেবাশীষ, ‘টিভি সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও কিন্তু কভিড নীতিমালা আছে। হয় আপনি কম ক্যামেরা ব্যবহার করবেন নয়তো কম কর্মী কাজে লাগাবেন। খেলোয়াড়দের খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ১০ জন থাকলে এখন সেই সংখ্যাটি তিনে নামিয়ে আনতে হবে। এ রকম আরো কিছু জায়গায় লোক কমানো যাবে। সে ক্ষেত্রে কিছু মানুষকে বাড়তি কাজ করতে হবে। তিনজনের কাজ একজনকে দিয়ে করিয়ে হয়তো ঝুঁকি আমরা আরো কমিয়ে আনতে পারব।’

নতুন বাস্তবতা মেনে নিয়ে এখন ঝুঁকি কমানোর বিকল্পেই তাই ঝুঁকতে হচ্ছে!

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।