দুয়ারে শানকার – U.S. Bangla News




দুয়ারে শানকার

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ১৩ জুন, ২০২৪ | ৮:১১
‘সে বোধ করি ছুরির সঙ্গে সঙ্গে ভাবনাতেও শান দিতেছিল, তাই তার শান দেওয়া আর শেষ হইতেছে না।’ না, রবীন্দ্রনাথের জয়সিংহের মতো অতটা সময় নেই আরিফ মিয়ার হাতে। কাঁধে লাল রঙের শান মেশিন। দু’পায়ে ছুটে চলার তীব্র তাগিদ। আর কণ্ঠেু ‘হেই শান লাগে শান... পাটা ধার বঁটি ধার...’। হাঁকডাক শুনে গৃহিণীও হাজির। নিত্যপ্রয়োজন মেটানো দাখানা শান দেওয়া হয়নি বহুদিন। হুটহাট দুয়ারে শানকারের দেখা পাওয়া গেলে তো হাতছাড়া করা যায় না। ফরমায়েশ মেটাতে পথেই ভ্রাম্যমাণ মেশিন নিয়ে বসে পড়লেন শানকার। এটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার দৃশ্য। তবে ঈদ মৌসুমে এমন দেশজুড়েই এই দৃশ্য খুব সাধারণ। শান কারিগর আরিফ মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায়।

তবে পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন ফেঞ্চুগঞ্জ। প্যাডেল ঘুরিয়ে শান দেওয়া শুরু করলেন তিনি। সচরাচর এমন কাজ দেখার সুযোগ হয় না। তাই কৌতূহল নিয়ে কাছেই বসলাম। প্যাডেল দিতেই চেইনের সাহায্যে ঘুরছে একটি বড় চাকা। সেই চাকায় বাঁধা সুতায় ঘুরাচ্ছে বেয়ারিংসহ শানপাথরের চাকাটি। সেখানে জং ধরা দা-টি ধরতেই পাথর-লোহার ঘর্ষণে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হয়। সেই সঙ্গে হিস হিস শব্দে চকচকে হয়ে উঠছে দাখানি। শানকারী বেশ প্রাচীন পেশা। একটা সময় এই পেশার প্রাধান্য ছিল। কৃষি যন্ত্রপাতি ও ছুরি, কাঁচি শান দেওয়া থেকে শুরু করে ইস্পাতে তৈরি খঞ্জর, বর্ষা, তরবারি বানানো ও সাজ-সরঞ্জাম লাগানোর কাজ করত শানকারেরা। ব্যস্ত সড়কের পাশে, হাটবাজারে, বটতলায় বিশেষ

শান পাথর নিয়ে বসত। কেউ কেউ ঘুরে বেড়াত নগরের অলিগলি কিংবা গাঁয়ের মেঠোপথে। আরেক ধরনের শানকার দুর্গ এবং রাজবাড়ীতে দেখা যেত; যারা অস্ত্র শান দিতেন। নিত্যনতুন আবিষ্কারে একের পর এক পেশা হারিয়ে যেতে থাকে, সেই সঙ্গে হারিয়ে যায় পেশাসম্পৃক্ত যন্ত্র, যন্ত্রাংশসহ নানা উপকরণ। মোটরচালিত যন্ত্রের কাছে হার মানছে প্যাডেলচালিত শানযন্ত্র। অনেকটা অলক্ষ্যেই বিলুপ্তির পথে পা বাড়াচ্ছে প্রাচীন এই পেশাটি। কাজের ফাঁকে আরিফ মিয়া জানালেন, তাঁর রয়েছে দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতার ঝাঁপি। লেখাপড়ায় বেশিদূর এগোতে পারেননি। অনেকটা বাধ্য হয়েই শিখেছেন এ কাজ। তবে ঠেকে শেখা এ কাজ কখনও ঠেকায়নি তাঁকে। শানেই খুঁজে পেয়েছেন জীবনের মানে। একসময় এ কাজ করে ভালোই আয়-রোজগার করতেন।

এখন তেমন হয় না। ভারী মেশিন কাঁধে নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে বেড়ানো চাট্টিখানি কথা নয়। আবার প্যাডেল ঘুরাতেও শ্রম লাগে। আগুনের স্ফুলিঙ্গে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার পরও কাজ তো করতে হয়। দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি, কাঁচি, কুড়াল, তলোয়ার সবই শান দিতে হয়। আকার-আকৃতি, মরিচা- জং ইত্যাদি দেখে দরদাম স্থির করা হয়। তবে সাধারণত চাকু ১০, ছুরি ২০, দা-বঁটি ৪০ থেকে ৬০, চাপাতি ৪০, সুপারি কাটার সরতা ২০, কুড়াল ৪০, শিলপাটা ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে ধারালো করা হয়। কোরবানি ঈদ এলে কাজের হিড়িক পড়ে। তা ছাড়া সারা বছর তেমন একটা কাজ পাওয়া যায় না। সারাদিন খেটে ৩০০-৪০০

টাকা আয় হয়। এ আয়ে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে বর্তমানে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। অভাবের তাড়নায় ছেলেমেয়েদেরও ঠিকমতো লেখাপড়া করাতে পারেননি। কথায় যেন আক্ষেপ ঝরে। মেশিন কাঁধে নিয়ে আবার চলতে শুরু করেন আরিফ মিয়া। শান-পাথরের ঘর্ষণে কঠিন লৌহ মসৃণ হলেও জীবনের কঠিন পথটা কেবল মসৃণ হয় না আরিফ মিয়াদের।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কোটা আন্দোলনে রেসিডেন্সিয়াল কলেজ শিক্ষার্থী ফারহান নিহত বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ শুমার, পেলোসির সংঘাত ও সহিংসতা কাম্য নয়: চীনা রাষ্ট্রদূত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, আলোচনায় সমাধান মিলবে: আরেফিন সিদ্দিক স্বামী অন্য নারীর সঙ্গী, বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন দুবাইয়ের রাজকুমারী এবার কোটা আন্দোলন নিয়ে সরব মেহজাবীন, যা বললেন মাদারীপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে লেকের পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়ালেন কলকাতার নায়িকা সোহেল-নিরব-টুকুসহ বিএনপির ৫০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জামায়াতের বিএনপির কার্যালয়ে ফের ঝুলছে তালা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান, স্বপ্নের বিপ্লব গড়ে তুলছে: রিজভী শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে আজ মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত: কাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ নিয়ে যা বললেন ওবায়দুল কাদের যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকের বাংলাদেশ গমন : ডা:মাসুদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজ সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দুবাইয়ের রাজকন্যা হয়েও যে কারণে স্বামীকে তালাক দিলেন শেখা মাহরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বেআইনি শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে হানিফ ফ্লাইওভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত