দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে

দখল, দূষণ, বাঁধ নির্মাণ, নাব্য সংকট আর কচুরিপানার জঞ্জালে এককালের প্রমত্তা ডাকাতিয়া নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। ১৯৬৩ সালে লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর ও ফরিদগঞ্জের কিছু অংশ নিয়ে প্রায় একশ কিলোমিটার এলাকার ৫৭ হাজার হেক্টর জমিকে বন্যামুক্ত রেখে বছরে একাধিক ফসল ও মাছ উৎপাদনের জন্য চাঁদপুর সেচ প্রকল্প নামে ৫৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি ১৯৭৮ সালে সমাপ্ত হয়। এরপর ডাকাতিয়া তার গতি ও স্রোত হারিয়ে ফেলে।

কালের বিবর্তনে রায়পুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাকাতিয়া দখল, নাব্য সংকট এবং কচুরিপানা জটের কারণে নদীটি মৃতপ্রায়। এর সঙ্গে গত এক দশক ধরে নদীতে ইচ্ছামতো বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে নদীটি ক্রমশ খালে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কচুরিপানা ও বসতবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে এ নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোকে বেকার জীবন কাটাতে হয়।

ইতোমধ্যে অনেক জেলে পরিবারের সদস্যরা তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। অপরদিকে নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। পানি নষ্ট হয়ে ছড়াচ্ছে নানান রোগব্যাধি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা ও অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৬৮ সালে ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ডাকাতিয়া নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প সিআইপি বেড়িবাঁধ। তখন থেকেই নাব্য হারাতে শুরু করে খরস্রোতা ডাকাতিয়া। নদীর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় কচুরিপানার মারাত্মক জট। বছরের পর বছর এ কচুরিপানা পচে নদীর পানি নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে নদীতে প্রায় ৩০ প্রজাতির দেশি মাছ আজ অস্তিত্ব সংকটে।

দূষণের আরেকটি বড় কারণ, পৌর শহরের ধানহাটা ও মহিলা কলেজের দিকের স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় এ নদীর পানিতেই। পাশাপাশি শহরের আবাসিক এলাকার অসংখ্য সুয়ারেজের লাইন এ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পানি ও মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, শহরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন করা হবে যাতে করে নদীতে কারো ময়লা ফেলতে না হয়।

এরপরও যদি কেউ বাড়ির সুয়ারেজের লাইন নদীতে দিয়ে এবং ময়লা ফেলে নদীর পানি নষ্ট করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া নদীর দুপারে সুন্দর পর্যটন নগরী গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে। এদিকে ডাকাতিয়া নদী রক্ষায় দীর্ঘদিন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জিল্লুর রহমান, আলিম উল্যা পিন্টু ও তুহিন বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পানি ও মাছ রক্ষায় অচিরেই নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে। আর এর জন্য চাই স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।