টিকার উৎপাদন বাড়াতে তিন হাজার কোটি রুপি চায় সিরাম ইনস্টিটিউট

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৮ এপ্রিল ২০২১, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
টিকার উৎপাদন বাড়াতে তিন হাজার কোটি রুপি চায় সিরাম ইনস্টিটিউট

টিকার উৎপাদন বাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি অব্যাহত রাখতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তিন হাজার কোটি রুপির প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভি ও দ্য হিন্দুর।

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদর পুনাওয়ালা বলেন, ‘আমাদের তিন হাজার কোটি রুপির প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে কয়েক হাজার কোটি রুপি ব্যয় করেছি যার বিবেচনায় তা কোনো ছোট অঙ্ক নয়। আমাদের সক্ষমতা তৈরির জন্য অন্যান্য উদ্ভাবনী উপায়গুলো খুঁজে বের করতে হবে যাতে আমরা কোভিড বৃদ্ধির আলোকে আমাদের জাতিকে সাহায্য করতে পারি।’

সিরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, জুন থেকে প্রতি মাসে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ১১০ মিলিয়ন ডোজ উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে তারা।

পুনাওয়ালা জানান, সিরাম ইনস্টিটিউট বর্তমানে প্রতিদিন দুই মিলিয়ন ডোজ উৎপাদন করছে। ‘আমরা এ পর্যন্ত শুধু ভারতেই ১০০ মিলিয়ন ডোজ এবং অন্য দেশগুলোতে ৬০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করেছি।’

উল্লেখ্য, যেভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তা রুখতে গেলে যত বেশি সম্ভব মানুষকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন। জুন–জুলাই মাসের মধ্যেই তা করতে হবে। সে জন্য দরকার উৎপাদন বাড়ানো। তার জন্য সিরামের প্রয়োজন তিন হাজার কোটি রুপি।

আদর পুনাওয়ালা জানান, টিকার উৎপাদন নিয়ে তাঁর সংস্থা অত্যন্ত চাপের মুখে রয়েছে। দেশবাসীকে টিকা দেওয়া ও বিদেশে রপ্তানির জন্য উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। উৎপাদনক্ষমতা না বাড়ালে তা সম্ভব নয়।

এদিকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত। দেশটিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা। রেকর্ড পরিমাণ আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এক লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যা একদিনে সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ এক হাজার ৭৮৫ জন। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এ কথা জানায়।

গত তিনদিনে দ্বিতীয় বারের মতো একদিনে করোনার সংক্রমণ এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছে ৬৩০ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ১৭৭ জনে।

বর্তমানে ভারতে করোনায় অসুস্থ রয়েছে আট লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৩ জন যা মোট সংক্রমণের ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। সুস্থতার হার পুনরায় কমে ৯২ দশমিক ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।