জোরপূর্বক শ্রম ও মানব পাচার রোধে শক্ত অবস্থানে মালয়েশিয়া

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ জুলাই ২০২১, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
জোরপূর্বক শ্রম ও মানব পাচার রোধে শক্ত অবস্থানে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় জোরপূর্বক শ্রম ও মানব পাচার বন্ধে গাইড লাইন তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ( আইএলও) এবং মালয়েশিয়া সরকার। এই রেফারেল গাইড লাইনটি মালয়েশিয়ায় যে কোনো দেশি বা বিদেশি শ্রমিক বা কর্মীকে নিয়োগকর্তা বা কোনো ব্যক্তি জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করলে বা এ উদ্দেশ্যে পাচারের শিকার হলে মালয়েশিয়ার পুলিশ, শ্রম দপ্তর, মানব পাচার প্রতিরোধ কাউন্সিল, ট্রেড ইউনিয়ন এবং নির্ধারিত বেসরকারি সংস্থায় রিপোর্ট করতে পারবে। কিউ আর কোড স্ক্যান করলে নাম জানা যাবে। সংস্থাগুলো কর্মীর বিষয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং তথ্য ও কর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে।

ফ্রন্ট-লাইন পরিষেবা সরবরাহকারীর গাইড লাইন অনুযায়ী ৫টি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে: (১) সম্ভাব্য মামলার প্রতিবেদন করা; (২) সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অধিকতর তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই; (৩) ভুক্তভোগীর চাহিদা মূল্যায়ন; (৪) মামলার রেফারেল তৈরি; এবং (৫) উল্লিখিত মামলার ব্যবস্থা নেওয়া। প্রতিটি অপরাধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে।

গাইড লাইনে মানব পাচার সম্পর্কে মালয়েশিয়ার এন্টি ট্রাফিকিং ইন পারসন অ্যান্ড এন্টি স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্ট আইন ২০০৭ উল্লেখ করা হয়েছে যে, trafficking in persons means all actions involved in acquiring or maintaining the labour or services of a person through coercion, and includes the act of recruiting, conveying, transferring, harbouring, providing or receiving a person for the purposes of this act. এ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাক্তিকে জোর জবরদস্তিমূলকভাবে নিয়োগ করে, পৌঁছে দেয়, স্থানান্তর করা/পরিবহন করে, আশ্রয়/কোথাও রেখে দেওয়া এবং গ্রহণ করে অপরাধ হিসেবে গণ্য। এছাড়াও এতদ উদ্দেশ্যে বল প্রয়োগ করে বা হুমকি দেয়, জোর জবরদস্তি করে, অপহরণ করে, প্রতারণা করা, ভুল তথ্য দিয়ে প্রলুব্ধ করে, দুর্বলতার সুযোগ নেয়, এ থেকে আয় করে এবং শোষণ করে তাহলে যেখানেই সংঘটিত হোক না কেন তা মানব পাচার এবং অভিবাসী স্মাগলিং অপরাধ সংঘটিত হবে। এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন এনজিও বিভিন্ন সময় বলেছে।

জবরদস্তি মূলক শ্রমের বিষয়টি সম্পর্কে গাইড লাইনে উল্লেখ করা হয়েছে- all work or service which is exacted from any person under the menace of any penalty and for which the said person has not offered himself [or herself] voluntarily.’ILO Forced labour Convention, ১৯৩০ [যে সমস্ত কাজ বা পরিষেবা/সার্ভিস যা কোন ব্যক্তির কাছ থেকে কোন শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা ভয় দেখিয়ে বা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে জোর করে নেওয়া হয় এবং যার জন্য উক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সম্মতি জ্ঞাপন করেনি এমন ঘটনা ফোর্সড লেবার হিসেবে চিহ্নিত। (আইএলও বাধ্যতামূলক শ্রম সম্মেলন, ১৯৩০) এ ধরনের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে আমেরিকা ও ইউ কে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

যে কেউ গাইড লাইনে উল্লিখিত ২২টির মধ্যে যে কোনো একটি ঘটনা দেখলেই বা নিজের ক্ষেত্রে ঘটলে কোড স্ক্যান করে তথ্য দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য দাতার তথ্য গোপন রাখার শর্ত রয়েছে।
২২টি তথ্য হলো: কর্মক্ষেত্রে প্রকৃতি (কাজ, বেতন, আবাসন , নিরাপত্তা) এবং শর্ত সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল (বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে দেশে এরূপ করা হয়েছে); পাসপোর্ট, আইনি বা অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র আটকে রাখা; শারীরিক বা যৌন নির্যাতন/ সহিংসতা; সংবেদনশীল শব্দ বা মৌখিক/কথার দ্বারা নির্যাতন; নিজ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংসতার হুমকি; কাগজপত্রের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে (পুলিশ বা ইমিগ্রেশন ) জানাতে বা ধরিয়ে দিতে হুমকি দেওয়া; বাড়িতে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া; কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না করার হুমকি দেওয়া, ঋণ বা ধারদেনা করলে তা বৃদ্ধির হুমকি দেওয়া, কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাক লিস্ট) করার হুমকি দেওয়া, অনুপযুক্ত শর্তাদির জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকারীদের অর্থ প্রদান, অতিরিক্ত রিক্রুটিং ফিস দিয়েছে, বেতন আটকানো, অন্যায়ভাবে বেতন থেকে টাকা কাটা, অবরুদ্ধ থাকা, পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে না দেওয়া, অতিরিক্ত কাজ করান, ছুটির দিন উপভোগ করতে না দেওয়া বা ছুটি নেওয়ার অনুমতি নেই, জীবনযাত্রার/বসবাসের অবনতি ঘটছে এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী নিজেই এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে উপরের বিষয়গুলো অনেক আগে থেকেই যাচাই করছেন।

উল্লিখিত ২২টি পয়েন্টের মধ্যে অতিরিক্ত শ্রম, বেতন কম, ওভারটাইম না পাওয়া, ছুটির দিনেও কাজ করা, ঋণ করে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসা, অতিরিক্ত রিক্রুটিং খরচ দেওয়া, দেশে রিক্রুটমেন্ট সময়ে যে কাজের ও বেতনের কথা বলা হয়েছিল তার সাথে মিল না থাকা, দালাল এবং বাসস্থানের খারাপ অবস্থার তথ্য আমেরিকা কর্তৃক এবং ইউকের ইউনিভার্সিটি নিউ ক্যাসলের গবেষণায় উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য যে, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়াকে টায়ার ৩-এ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে মালয়েশিয়া সরকার খুব সিরিয়াসলি কাজ করছে এ গাইড লাইন প্রদান তার প্রমাণ। ইতোমধ্যে মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় ওয়ার্ক ফর ওয়ার্কার্স নামে একটি অনলাইন অ্যাপ চালু করেছে যার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি নির্বিশেষে যে কোনো কর্মী যে কোনো সময় কর্মক্ষেত্রের অসুবিধা, বঞ্চনার এবং নির্যাতন সম্পর্কে জানাতে পারছেন; কর্মীরা প্রতিকার পাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।