জাবি হলের তালা ভেঙ্গে ঢুকলেন শিক্ষার্থীরা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
জাবি হলের তালা ভেঙ্গে ঢুকলেন শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গেরুয়ায় সংঘটিত শুক্রবারের ঘটনায় শনিবার দিনভর ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। এদিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও এবং আবাসিক হলের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রী হলগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়। তখনও ছাত্রী হলগুলোতে অবস্থান করছিলেন উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, সরকারী নির্দেশে হল বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারী নির্দেশ ছাড়া হল খোলা যাবে না। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে হল খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।

জাবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেরুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে শনিবার সকাল ১০টায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় দুপুর দুইটার মধ্যে হল খুলে দেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এরপর, হল খোলার দাবিতে বেলা এগারোটায় শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মিছিলটি বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাড়ে এগারোটায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা বারোটার মধ্যে হল খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য প্রশাসনকে সময় বেঁধে দেয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘সরকার অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত আবাসিক হল খোলা সম্ভব না।’ এরপর শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের হল খোলার দাবি মেনে নেয়নি। আমরা এভাবে অনিরাপদভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে পারি না। তাই আমরা বাধ্য হয়েই তালা ভেঙ্গে হলে ঢুকেছি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে আল বেরুনী হলের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকেন শিক্ষার্থীরা। পরে একে একে সবক’টি ছাত্র ও ছাত্রী হলের তালা ভেঙ্গে দেয়া হয়। পরে ছাত্রী হলগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও তালা লাগিয়ে দিলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্র হলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন।

বিকেলে বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি কর্তৃপক্ষ সমবেদনা জানাচ্ছে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের প্রবেশ এবং সকল ধরনের অনুষ্ঠান ও জমায়েত নিষিদ্ধ’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মিছিল, জমায়েত, আবাসিক হলের তালা ভাঙ্গা সিন্ডিকেটে গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর ঝামেলা হয়। সমস্যা সমাধনে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। আলোচনা চলাকালে আবার কথা কাটাকাটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গেরুয়া বাজারের একটি ভবনে আটকে রেখে স্থানীয়রা তাদের মারধর করে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল, কার্যনির্বাহী সদস্য পিয়াস ইজারদার এ্যালেক্স। এ সময় তারা আহত হন বলে অভিযোগ করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে মসজিদে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে স্থানীয়দের ক্ষেপিয়ে তোলা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। হামলায় ৫০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জাবি চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গিয়ে আহত ছাত্রদের উদ্ধার করেন। তবে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, গেরুয়ায় জাবি শিক্ষার্থীরা স্থানীয় দোকানির কাছে চাঁদা চাইলে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আরও পড়ুন