জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে ইনসেপ্টার নতুন ভ্যাকসিন ‘প্যাপিলোভ্যাপ’

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২ আগস্ট ২০২২, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে ইনসেপ্টার নতুন ভ্যাকসিন ‘প্যাপিলোভ্যাপ’

বাংলাদেশে ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর কারণের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার দ্বিতীয় প্রধান। প্রতি বছর দেশে ১০ হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মারা যান। পাঁচ কোটিরও বেশি নারী এই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছেন। ৯ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত নারীর জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে ইনসেপ্টা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিয়ে এসেছে নতুন ভ্যাকসিন ‘প্যাপিলোভ্যাপ’।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্যাপিলোভ্যাপের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ‘জরায়ুমুখের ক্যান্সার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য একটি প্রচেষ্টা’ শীর্ষক এক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারটি আয়োজন করে ওজিএসবি (অবসটেট্রিকাল অ্যান্ড গাইনোক্লোজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ)। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওজিএসবি সভাপতি অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা। এছাড়া দেশের এইচপিডি ভ্যাকসিনের (হিউম্যান পাপিললোমা ভাইরাস) প্রয়োজনীয়তা এবং ক্যান্সার নির্মূলে নিয়মিত স্ট্ক্রিনিং ও এইচপিভি ভ্যাকসিন (হিউম্যান পাপিললোমাভাইরাস) প্যাপিলোভ্যাপের সূচনা হলে কীভাবে এটি জরায়ুমুখের ক্যান্সার মুক্ত দেশ অর্জনে অবদান রাখতে পারে- এ নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন ও ডা. ফারহানা লাইজু। কয়েক বছর ধরে দেশে এইচপিডি ভ্যাকসিনের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা প্যাপিলোভ্যার কীভাবে পূরণ করতে পারবে- এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ডা. এসকে জিনাত আরা নাসরীন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. টিএ চৌধুরী বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুর প্রধান কারণ অসচেতনতা এবং অনেক বছরের অবহেলা। তাই বালিকা-কিশোরীদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রাথমিক পদক্ষেপই হলো ভ্যাকসিন।

জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন বলেন, ভ্যাকসিনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়। এই ভ্যাকসিন রোগের আশঙ্কা প্রায় ৮৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এজন্য ডাব্লিওএইচও, সিডিসি, এসিআইপি ৯ বছরের পর থেকে প্রত্যেক মেয়ের জন্য এইচপিভি ভ্যািকসিন সুপারিশ করেছে এবং বিশেষভাবে বয়সের প্রথম দিকেই দিতে উৎসাহিত করেছে।

বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এখন প্যাপিলোভ্যাপ নামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এইচপিডি ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। এই ক্যান্সার নির্মূল করার জন্য, এইচপিভি ভ্যাকসিন প্রাথমিক পদক্ষেপ। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিনের এক বিশাল শূন্যতা ছিল। এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছে দেশের প্রথম ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ডা. ই এইচ আরেফিন আহমেদ বলেন, প্রথমবারের মতো জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ভ্যাকসিন প্যাপিলোভ্যাপ বাজারজাত শুরু করা হয়েছে। ৯ থেকে ৪৫ বছরের যেকোনো নারী প্যাপিলোভ্যাপের তিন ডোজ টিকা নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে প্রথম ডোজ নেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং ছয় মাসের মধ্যে তৃতীয় ডোজ নিতে হবে। বাংলাদেশের বাজারের প্রতি ডোজের মূল্য ২৫০০ টাকা। এটি দেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়। এই ভ্যাকসিন দেশ থেকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূল করার পথ প্রশস্ত করবে।

প্যাপিলোভ্যাপ আধুনিক প্রি-ফিলড সিরিঞ্জও বাজারজাত হচ্ছে। প্রি-ফিলড সিরিঞ্জে সম্পূর্ণ ডোজ এসেপ্টিক পরিবেশে তৈরি করা হয় এবং সম্পূর্ণ স্টেরাইল প্যাকেজিংয়ে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় বাজারে দেওয়া হয়। এই সিরিঞ্জে ভ্যাকসিন সরাসরি প্রয়োগ করা সহজ এবং আলাদা করে মাত্রা পরিমাপের প্রয়োজন নেই। ফলে আরও নিরাপদে ও সহজে সঠিক মাত্রার ডোজে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।










আরও পড়ুন