‘গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে’

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
‘গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে’

দেশে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে। যদি আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারি, আমাদের গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব না। তাই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় মোশাররফ এসব কথা বলেন।

র‌্যাবের কর্মকর্তাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকার নির্যাতন করে, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যা-মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো চাপা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ সারা দুনিয়া জেনেছে, এ দেশে মানবাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই।

মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, নির্যাতন করে, নিষ্পেষণ করে, মুখ বন্ধ করে রেখে বোধহয় পার পেয়ে যাচ্ছি। পার পেয়েছে? পায়নি। আজকে সারা দুনিয়া জেনেছে, এ দেশে মানবাধিকার নেই।

যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘অর্থাৎ এটি স্বীকৃত যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। এখন আমাদের বলার দরকার হয় না যে বাংলাদেশে মানবাধিকার নেই। আর যে দেশে গণতন্ত্র নেই, সে দেশে মানবাধিকার থাকতে পারে না। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এটি আমরা কতবার বলেছি, গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কত হিসাব দিয়েছি, কী পরিমাণ মামলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিরুদ্ধে, ১ লাখের বেশি মামলা, ৩৫ থেকে ৩৬ লাখের মতো আসামি—একটা গণতান্ত্রিক দেশে এটি হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দপ্তর থেকে বাংলাদেশের একটি সংস্থার ওপরে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কতগুলো হাই অফিশিয়ালের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এটা কিন্তু গৌরবের বিষয় নয়। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজকে ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে বলেছে, জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যেন র্যাবের সদস্যরা যেতে না পারেন। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই লজ্জার ব্যাপার। এ লজ্জা ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে এভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে কারা? আজকের সরকার। কেন? শুধু গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য।’

আবার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, পত্রিকায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দেখেছেন। তিন গুণ মূল্যবৃদ্ধির এ প্রস্তাবের তাঁরা তীব্র বিরোধিতা করেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, এ সরকার অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে শোষণ করছে। তারা ইতোমধ্যে তেল-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এ সরকার জনগণের সরকার নয়, তাদের কোনো ম্যান্ডেট নেই।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন। বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান সভা সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজিমউদ্দিন আলম, শহীদুল ইসলাম, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলম প্রমুখ।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।