ক্যান্ডিতে জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ৪৩৭ রান

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২ মে ২০২১, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
ক্যান্ডিতে জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ৪৩৭ রান

ক্যান্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিততে বাংলাদেশকে ৪৩৭ রানের অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৯ উইকেটে ১৯৪ রান তুলেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন দিমুথ করুনারত্নে। ততক্ষণে অবশ্য লিড দাঁড়িয়ে গেছে ৪৩৬ রান।

বড় লক্ষ্য পেতে সফল ছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ৪টি উইকেট তুলে নিলেও তখনই লঙ্কানদের লিড হয়ে যায় ৪১৪ রান। লাঞ্চের পর আরও কিছুক্ষণ ব্যাট করার কৌশল নিলেও বাংলাদেশের বোলিং নৈপুণ্যে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা।

অবশ্য লঙ্কানরা যে লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে তাতে জিততে গেলে টেস্ট রেকর্ডই করতে হবে সফরকারীদের। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৮৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে। ২০১৭ সালে সেটি করেছিল লঙ্কানরাই, প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। আর পাল্লেকেলেতেও ৩৭৭ রানের বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির নেই। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭৭ রান করে জিতেছিল পাকিস্তান।

সে কারণেই টেস্টটা বাংলাদেশের হাতের নাগালারের বাইরে নিতে সকাল সকাল হাত খুলে মারার চেষ্টা করতে থাকেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। অপরপ্রান্তে তাকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেও। অবশ্য এই সময় উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগও হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। ১১.২ ওভারে তাইজুলের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ উঠলেও সেটি হাতে জমানো যায়নি।

এক ওভার পর অবশ্য সাফল্যের মুখ দেখেন তাইজুল। মেরে খেলার চেষ্টায় সফল হতে পারেননি ম্যাথুজ। তাইজুলের বল ঠিকমতো ডিফেন্ড করতে পারেননি। ফলাফল বল ইনসাইড এজ হয়ে জমা পড়ে শর্ট লেগে থাকা বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলীর হাতে। ম্যাথুজ সকালে একটি ছয় মেরে ফিরে যান ১২ রানে।

এর পর করুনারত্নে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা মিলেই সকালের ধাক্কা সামাল দিতে থাকেন। দুজনে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। নিয়মিত স্পিনাররা জুটি ভাঙতে না পারলেও এই জুটি ভাঙেন খণ্ডকালীন অফস্পিনার সাইফ হাসান। ৬৬ রানে করুনারত্নে শর্ট লেগে তালুবন্দি হন বদলি ফিল্ডার ইয়াসীর আলীর।

অপরপ্রান্তে থাকা ধনাঞ্জয়াও ফিরে যান তার পর পর। মেহেদী মিরাজের স্পিনে ক্যাচ উঠে বল লাগে কিপারের গায়ে। সেই বল তালুবন্দি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ধনাঞ্জয়া ফেরেন ৪১ রানে। এর পর লিড চারশো ছাড়াতে ভূমিকা রাখেন দিকবিলা ও নিসাঙ্কা মিলে। লাঞ্চের আগে অবশ্য তাইজুলের ঘূর্ণিতে উঠিয়ে মারতে গিয়ে শরিফুলের তালুবন্দি হন নিসাঙ্কা। তিনি ফেরেন ২৪ রানে।

লাঞ্চের পর পর অবশ্য কাঙ্ক্ষিতভাবে স্কোর করতে পারেনি লঙ্কানরা। নামার পরই নিরোশান দিকবিলার প্রতিরোধ ভাঙেন পেসার তাসকিন। শরীর বরাবর বাউন্স দিলে দিকবিলা পুল করেছিলেন। তাতেই তাইজুলের হাতে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন দিকবিলা (২৪)। পরের ওভারে রামেশ মেন্ডিসও ফিরে যান বড় শট খেলার লোভ সামলাতে না পেরে। তাইজুলের বলে মেন্ডিসের (৮) ক্যাচ নেন তামিম।

এর পর সুরাঙ্গা লাকমাল কিছু বাউন্ডারি মেরে তাইজুলের বলে বোল্ড হলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। অবশ্য তার আগের বলে ক্যাচ উঠলেও সেটি নিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের ফিল্ডার।

এই ইনিংসে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন বামহাতি স্পিনার তাইজুল। অষ্টম বারের মতো নিয়েছেন ৫ উইকেট। এই ইনিংসে তিনি ৭২ রানে নিয়েছেন ৫টি। দুটি নিয়েছেন মিরাজ, একটি করে নিয়েছেন সাইফ ও তাসকিন।

এর আগে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৫১ রানে। প্রবীণ জয়াবিক্রমার ঘূর্ণিতে দিশেহারা বাংলাদেশ ফলোঅন এড়াতে পারেনি। যদিও সফরকারীদের ফলোঅন না করিয়ে ২৪২ রানে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে পরে। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয়াবিক্রমা ৯২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয়াবিক্রমা ৯২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।