“ক্যাডেটদের বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি”

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
“ক্যাডেটদের বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি তৈরি করে দিয়ে যান। আমরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এটাকে সচল করার এবং আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেই। আমরা এর শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাল করেছি ও আন্তর্জাতিক মানের করার চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাডেমির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। এখানে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং নিয়ে ক্যাডেটরা দেশে-বিদেশে যেন কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে ৫৫তম ব্যাচের ক্যাডেটদের ‘মুজিববর্ষ গ্রাজুয়েশন প্যারেড’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলপথ হলো বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় একটি মাধ্যম। জলপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ না থাকলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে যেত। আমরা নৌ পথকে আরও সচল করার পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন করে দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু, জাতিসংঘেরও তখন এই আইন হয়নি। কিন্তু পরের সরকারগুলো এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। আমরা ক্ষমতায় এসে এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেই। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করি। অভ্যন্তরীণ নৌ পথকে আমরা আরও সচল করে দিচ্ছি।’

মেরিন একাডেমির ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা বিরাট দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছো। সমুদ্রচারণ খুব চ্যালেঞ্জিং। তবে তোমরা যে দেশের কাজ করো, সেই দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশের সুনাম যেন অক্ষুণ্ন থাকে যেন। দেশের ভাবমূর্তি যেন উজ্জ্বল হয়।’

সরকারপ্রধান জানান, বর্তমানে দেশে সরকারী পাঁচটি ও বেসরকারী ছয়টি মেরিন একাডেমি রয়েছে। আরও চারটি চালু হবে। সরকার মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি চালু করেছে। জাহাজ চলাচলে উচ্চতর শিক্ষার প্রবর্তনের জন্য ২০১৩ সালে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’। এর আওতায় বিদ্যমান তিন বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সাইন্স পাস ডিগ্রি কোর্সকে চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘মাস্টার অব মেরিটাইম সাইন্স’ ডিগ্রি কোর্স চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে বলেন, ‘করোনার কারণে সারা বিশ্ব যেখানে স্থবির আমরা অর্ধনীতির চাকা সচল রাখতে পেরেছি। করোনার টিকা আনতে পেরেছি অনেক উন্নত দেশের আগে। যদিও টিকাদান কর্মসূচি চলছে, তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। টিকা দেওয়ার পর মনে করবেন না সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য মার্চেন্ট নেভি ট্রেনিং বোর্ডের স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য মেরিটাইম অ্যান্ড কোস্টগার্ড এজেন্সির স্বীকৃতি প্রক্রিয়াধীন। যুক্তরাজ্যের সাউদ্যাম্পটন সলেন্ট ইউনিভার্সিটির ‘ওয়ারসাস স্কুল অব মেরিটাইম সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফিলিপাইনের মেরিটাইম একাডেমি অব এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের একাডেমির গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্যাডেটদের নিজ দায়িত্ব সততা, দক্ষতা এবং কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। যাতে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয় সে বিষয়টার দিকে সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে। দেশে বিদেশে দেশের মান রক্ষা করে চলতে হবে। আর সেই সঙ্গে যখন যে দেশে যাবে আমাদের সভ্যতা, আমাদের কৃষ্টি, আমাদের সংস্কৃতি, সেটাও আদান প্রদান করতে পারবে। অন্য জায়গা থেকে ভালো কিছু শিক্ষা নিয়ে আসতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা আজকে ট্রেনিং পেয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন তারা সবাই যখনই যেদেশে কাজ করবেন, নিজেদের দেশ হোক আর বিদেশে হোক সেদেশের আইন-নিয়ম কানুন বা সমুদ্র আইন সব কিছু মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলাবোধ ভেতরে থাকতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সমুদ্রগামী জাহাজের মেরিন অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার-সহ প্রায় ১০ মিলিয়ন কর্মী দেশের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১৬৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে একাডেমির পতেঙ্গা-প্রান্তে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথ নির্মাণ, দুইটি প্রশিক্ষণ বোটের কমিশনিং এবং পোস্ট-সি ক্যাডেট বন্টকের নবায়নের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একাডেমির লেকে দুটি ট্রেনিং লাইফবোটের কমিশনিং এবং পোস্ট-সি ক্যাডেটদের জন্য ১২০ জন ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন নবরূপায়িত বন্টক উদ্বোধন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।