এইচএসসির ফল ২৮ জানুয়ারির মধ্যে

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ জানুয়ারি ২০২১, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 29 বার
এইচএসসির ফল ২৮ জানুয়ারির মধ্যে

অধ্যাদেশ জারি করে নয় বরং আইন সংশোধনের প্রস্তাব আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস করেই ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ঝুলে থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষে এবার করোনার ছোবলে সৃষ্ট ‘বিশেষ পরিস্থিতি’তে পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশ করতে আইন সংশোধনের প্রস্তাবে সোমবার সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘ইন্টারমিডিয়েট এ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিনেন্স ১৯৬১ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২০’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৮’ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, অধ্যাদেশ জারি করে আগামী বুধ থেকে শনিবারের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা যায় কি না, সেই প্রস্তাব তোলা হয়েছিল মন্ত্রিসভায়। আইনে বিধান আছে, পরীক্ষা নিয়ে রেজাল্ট দিতে হবে। যেহেতু এবার পরীক্ষা নেয়া যায়নি, তাই ৭-১০ দিনের মধ্যে রেজাল্ট দিতে অধ্যাদেশ জারির প্রস্তাব করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। আর মাত্র ছয় দিন পর সংসদ বসবে, তাই মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে, অধ্যাদেশ নয়, সংশোধিত আইন আকারেই পাস করা হবে, যাতে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে রেজাল্ট দেয়া যায়।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশে সংশোধিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আইন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন আর অধ্যাদেশ হচ্ছে না। সংশোধিত আইনের খসড়া আগামী ১৮ জানুয়ারি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে উপস্থাপন ও পাসের পর এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী দুর্যোগকালীন পরীক্ষা নিতে সক্ষম না হলে মূল্যায়ন তথা ফল দেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে পরীক্ষা ছাড়া ফল প্রকাশের বিধান নেই।

এর আগে গত বছর ১১ শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর গত ৭ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি জানান, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও এবার নেয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে এবারের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।

পরে ডিসেম্বরের শেষে এসে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছিলেন, যেহেতু পরীক্ষা নেয়া যায়নি, সেহেতু আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে নতুন বছরের শুরুতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা যায় কি না, সেই চেষ্টা তারা করছেন।

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফল এখন প্রস্তুত। আইনী বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেই যে কোনসময়ে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি আছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেছেন, আমদের সব ধরনের ধরনের প্রস্তুতি আছে। সকল বোর্ড কর্মকর্তারাই বলছেন, তাদের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি আছে শতভাগ। তবে ফল প্রকাশের বিলম্ব হচ্ছে কেবল আইনী জটিলতার কারণেই। এখন আইন সংশোধনের প্রস্তাব আগামী ১৮ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশনে পাস হলেই সব বাধা কেটে যাবে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আরও পড়ুন