ঋণ আলোচনা চূড়ান্ত করাই মূল লক্ষ্য – U.S. Bangla News




ঋণ আলোচনা চূড়ান্ত করাই মূল লক্ষ্য

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৩ | ৯:৩৮
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অ্যান্তইনেত এম সায়েহ শনিবার ঢাকায় আসছেন। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করা। এ লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে সংস্থাটির দেওয়া শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাইবেন। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আইএমএফ-এর সদর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এর ভিত্তিতেই বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার আলোচনার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আইএমএফ-এর সঙ্গে ঋণের বিষয়ে সরকারের একটি নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে শুধু আনুষ্ঠানিকতা। কিছু শর্ত ইতোমধ্যে সরকার বাস্তবায়ন করেছে। আরও কিছু

শর্ত বাস্তবায়নের জন্য সময় চাইবে সরকার। এর মধ্যে নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর মতো আরও কিছু বিষয় রয়েছে। তাদের শর্ত বাস্তবায়নের জন্য সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ২২ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা আইএমএফ-এর শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি মনিটর করবে। আইএমএফ-এর সঙ্গে ঋণ আলোচনা শুরুর আগেই সরকার জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ভর্তুকি কমিয়েছে। যেটা আইএমএফ-এর প্রধান শর্ত। ডলারের

বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে যেসব নিয়ন্ত্রণ এখনো রয়েছে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে। তাদের শর্ত অনুযায়ী মুদ্রানীতিতে সংস্কার আনা হয়েছে। ঋণের সুদের হারের সীমা শিথিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক বৈঠকে খেলাপি ঋণ কমাতে সরকারি ব্যাংকগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন গভর্নর। আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী নিট রিজার্ভের হিসাব এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাহলে রিজার্ভ বেশি কমে যাবে। এ কারণে রিজার্ভ থেকে অর্থ নিয়ে গঠিত বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলের আকার ছোট করা হচ্ছে। যাতে রিজার্ভ থেকে কম অর্থ বাদ দিতে হয়। বর্তমানে ৮০০ কোটি ডলার বিভিন্ন তহবিলে রয়েছে। এটি কমিয়ে ৪০০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফ-এর ডিএমডির বৈঠকে এ বিষয়গুলো আলোচনা হবে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতেও সরকার আরও সময় চাইবে। অন্য শর্তগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ-এর ডিএমডির সাক্ষাৎ হবে ১৬ জানুয়ারি। ওই বৈঠকেই শর্ত বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইবে আইএমএফ। তবে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করেছেন। জ্বালানি তেল, গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষেও কথা বলেছেন। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের শর্তগুলো বাস্তবায়নে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পেয়েছে। ডিএমডির সফরের মধ্যে শেষ পর্যায়ের দরকষাকষি চূড়ান্ত হলে ঋণের খসড়া চুক্তিটিও চূড়ান্ত হবে। সেখানে সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি স্বাক্ষর

করবে। এটিই আইএমএফ-এর পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে। বোর্ড অনুমোদন করলেই ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় হবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ঋণ ছাড় হতে পারে। সূত্র জানায়, বৈশ্বিক মন্দা ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইএমএফ-এর কাছে দুটি খাতে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়ে গত জুলাইয়ে চিঠি দিয়েছে। এ ঋণের ব্যাপারে আলোচনা করতে ২৬ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত আইএমএফ-এর একটি মিশন বাংলাদেশ সফর করে গেছে। ওই সময়ে তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে বেশকিছু শর্ত আরোপ করেছে। ওইসব শর্তের বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে বেশকিছু প্রতিশ্রিুতিও পেয়েছে। এর ভিত্তিতে আইএমএফ মিশন একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তাদের প্রধান কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ে জমা দিয়েছে।

সেটি তারা পর্যালোচনা করে শর্তের বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার চায়। এ বিষয়ে গত মিশনের পক্ষে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। তারা সর্বোচ্চ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। কিন্তু আইএমএফ এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শর্ত বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি চায়। এ লক্ষ্যে আইএমএফ-এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মিসেস অ্যান্তইনেত এম সায়েহ ১৪ জানুয়ারি ঢাকা আসছেন। তিনি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন। বাংলাদেশে তার আলোচনা সফল হলে তিনি ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়ে একটি প্রতিবেদন দেবেন। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভর করেই আইএমএফ-এর নির্বাহী বোর্ড ঋণ ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন বেনজীর, আলামত পেয়েছে দুদক ঢাকার পানিতে মিলল ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান স্বাভাবিক জীবনে না ফিরলে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীনে ১২ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের ৪০০ পায়ের ছাপ সোয়া দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস খাওয়ানো হবে শনিবার গার্মেন্ট শ্রমিকদের টিসিবির স্মার্ট কার্ড দেওয়ার সুপারিশ জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে দুদক যুক্তরাজ্যে ভেঙে দেওয়া হলো পার্লামেন্ট ভাষণে নয়, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দেশ স্বাধীন হয়েছে: গয়েশ্বর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালু করছে ওমান এমপি আনার হত্যার তদন্ত নিয়ে যা বলল ভারত সরকারি চাকরির শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের তাগিদ এমপি আজিম হত্যা মামলা কনক্লুসিভ পর্যায়ে রয়েছে: হারুন এমপি আজিম হত্যা: কলকাতায় তদন্ত শেষে যেসব তথ্য দিলেন ডিবির হারুন আজিমের দেহ খণ্ডাংশ উদ্ধার অভিযান শেষে ঢাকায় ফিরলেন ডিবির হারুন ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব হেলিকপ্টার থেকে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী ঈদের আগে পরে ৬ দিন মহাসড়কে চলবে না ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-লরি ঘূর্ণিঝড় রেমালে পৌনে ২ লাখ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ‘লোন উলফ’ হামলার হুমকি মিশর-গাজা সীমান্ত দখলে নিয়েছে ইসরাইল