আমার মুখ বন্ধ রাখতে বড় ভাই চক্রান্ত করছেন ॥ কাদের মির্জা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
আমার মুখ বন্ধ রাখতে বড় ভাই চক্রান্ত করছেন ॥ কাদের মির্জা

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে চলমান আলোচনা-সমালোচনাকে আবারও উস্কে দিলেন পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এবার তাঁর অভিযোগ, মুখ বন্ধ রাখতে তাঁর বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছেন।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, আমার মুখ বন্ধ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত করা হচ্ছে। রাসেল নামে একজন আছে, তাকে দিয়ে আমাকে ধমক দিয়েছে। বিভিন্নভাবে আমাকে ধমক দেয়া হয়েছে যেন আমি এই সংবাদ সম্মেলন না করি।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করার পরে আপনার ঘোষিত যে কর্মসূচী স্থগিত করেছিলেন, সেগুলো আবার দেবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা কাদের বলেন, আমি শুনতেছি আওয়ামী লীগের একটা মিটিং হবে। আমি সেই মিটিং পর্যন্ত দেখব। যদি এগুলো সমাধান না হয়, তাহলে পরবর্তীতে আপনারাই সব দেখবেন। আমি কখনও এখান থেকে সরব না। আমি কোন পদ-পদবিকে হাজিরনাজির মানব না। এগুলো আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করব। আমি এগুলোর সঙ্গে নেই।

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও পরিবারকে রাজাকার পরিবার বলার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টামূলক ব্যবস্থা নেয়া, ফেনী, নোয়াখালীর অপরাজনীতি বন্ধ, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা কাদের বলেন, আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সন্তান! ১৯৭১ সালে ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাদের এলাকার মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। আমি আব্দুল কাদের মির্জা তখন ছোট ছিলাম, ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আমি আমার স্কুল থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নার ছবি পানিতে ফেলে দিয়েছিলাম। বেত্রাঘাত করে আমাকে স্কুল ছাড়া করেছিল। আর এখন বলে আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সদস্য! এত বছর এই দলের পেছনে সময় দিয়েছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আজ অনেক কষ্ট লাগে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার পরিবারের কেউ রাজাকার ছিল? আপনারা তদন্ত করে দেখেন। আমাদেরকে রাজাকার পরিবার বলে! সন্ত্রাসী বলা হয়। ওবায়দুল কাদের তাঁর পদ-পদবির জন্য মাথা নত করতে পারে কিন্তু আমি আব্দুল কাদের মির্জা এক দিনের জন্যও তাকে ছেড়ে দেব না। আমি অস্ত্রবাজি করব না, আমি তার বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। সে তার ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে কিন্তু আমি অস্ত্রের রাজনীতি করি না। নিচে আমার গাড়িগুলো দেখেন কয়েকটা লাঠি হয়ত থাকতে পারে, এর বাইরে কিছু পেলে এর বিচার আপনারা করবেন।

আবদুল কাদের মির্জা আরও বলেন, আমি শপথ নেয়ার জন্য ৬টার সময় যখন বসুরহাট থেকে রওনা করেছি, সোয়া ৬টার দিকে আমার গাড়িতে আক্রমণ করেছিল। তাঁর অভিযোগ, নিজাম হাজারীর নির্দেশে দিদারের তত্ত্বাবধানে সোহেল ও সাইফুল নামে দুজন সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে আমার গাড়িতে হামলা করেছে। হঠাৎ করে একটা ট্রাক এসে পড়ে। এটা আল্লাহ পাঠিয়েছিল। পরে আমার গাড়ি ক্রস করে চলে আসে। পরে বহরের অন্য গাড়িগুলোকে আক্রমণ করে। একরাম ভাইকে যেভাবে হত্যা করেছে, আমাকেও সেভাবে হত্যা করতে এই নিজাম হাজারী, দিদার, সোহেল এবং এর সঙ্গে একরামুল করিম চৌধুরীরাও আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা ও উচ্ছেদ করার জন্য ৫০ কোটি টাকা ফান্ড তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বড়ভাই ওবায়দুল কাদেরের কাছে বিচার চেয়েও পাননি জানিয়ে মির্জা কাদের বলেন, আজ চারটা দিনে একটা পিঁপড়াও গ্রেফতার হয়নি। সেজন্য আমি এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।