আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা দিবে যুক্তরাজ্য

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা দিবে যুক্তরাজ্য

এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের স্বীকৃতি অর্জনের পরও বাংলাদেশকে আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দুই ধাপে তিন বছর করে বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যে রফতানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি পাবে। যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণা বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের সুখবর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্যের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশ রফতানিতে জিএসপি সুবিধা নিশ্চিত করলে সহজে এলডিসি অর্জনের চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

বুধবার সকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন তাঁর বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়ে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত বা এলডিসি দেশের তালিকা থেকে বের করে চূড়ান্তভাবে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জনে সুপারিশ করতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী এলডিসি উত্তরণের পর রফতানি বাণিজ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা আর পাওয়া যায় না।

তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুল্ক ও কোটা মুক্ত বাজার সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করা হয়। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও ২৭ দেশ শীঘ্রই জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার ঘোষণা দিবে।

তাঁদের মতে, যুক্তরাজ্য বড় অর্থনীতির দেশ। ইউতে যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বড় ভূূমিকা পালন করে। দেশটির এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে পুরো ইউরোপে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার সুযোগ তৈরি হলো। সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জানান, এলডিসি উত্তরণের পরও যাতে জিএসপি সুবিধা বহাল থাকে সেজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট বাংলাদেশের রফতানিতে জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখবে।

তিনি জানান, আশার খবর হলো-ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।

রবার্ট ডিকসন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, বিশেষ করে উচ্চমানের সেবা খাতসহ যুক্তরাজ্যেও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ বাড়ছে। রফতানিভিত্তিক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হলেও দুই ধাপে তিন বছর করে যুক্তরাজ্যের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাবে। প্রথম ধাপে ২০২৪ সাল আর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পাবে। তার মানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য এ সময় পর্যন্ত শুল্ক আর কোটামুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এরপর কী ঘটবে সেটা নির্ভর করবে আমাদের জিএসপি নীতিমালা কেমন হবে, তার ওপর। অর্থাৎ আগামী ছয় বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পেতে থাকবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৪০ কোটি পাউন্ড।

এর মধ্যে বাংলাদেশ সে দেশে রফতানি করেছে ২৮০ কোটি পাউন্ডের পণ্য। আর যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করেছে ৬৩ কোটি পাউন্ডের পণ্য। মূলত যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির অধিকাংশই হচ্ছে তৈরি পোশাক। আর বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হচ্ছে যুক্তরাজ্য।

বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে রবার্ট ডিকসন বলেন, বাণিজ্য সংলাপে আন্ত রাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আইনের কারণে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের অন্তত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। কারিগরি ও পেশাগত কাজের জন্য বিশেষায়িত যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে এসে শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার মতো সাফল্য নিশ্চিত করতে চায়।

তারা এখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে। তবে প্রক্রিয়াগত যেসব সমস্যা আছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে।

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার তাঁর দেশে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আরও আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির ওপর জোর দেন। গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের সংলাপে এ বিষয়গুলো এসেছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।

রবার্ট ডিকসন বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকৃষ্ট স্থান হিসেবে তুলে ধরার স্বার্থে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পদ্ধতিগত অনিশ্চয়তা, চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তাবলি ও দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি করের হারের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা হওয়াটা জরুরি। আর এসব বিষয় সুরাহার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হচ্ছে পূর্বশর্ত। প্রসঙ্গত, এলডিসি উত্তরণের পর রফতানিতে জিএসপি সুবিধা ধরে রাখতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতর ইউএসটিআর-এ আবেদন করা হয়েছে। আগামী টিকফা বৈঠকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উপস্থাপন করার প্রন্তুতি নিচ্ছে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।