আগামী বছরের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে॥ ওবায়দুল কাদের

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
আগামী বছরের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে॥ ওবায়দুল কাদের

পদ্মা সেতুর চলমান নির্মাণ কাজের ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের জুনের মধ্যেই সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা আবারো জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন- বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর সরকারী বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভায় যুক্ত হন।

তিনি বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে যা সত্য নয়। চলমান কাজের ধারাবাহিকতায় আগামী বছর জুনের মধ্যেই সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

২০২৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির যে কথা বলা হয়েছে তা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি কোন মেরামতের প্রয়োজনই হয় সেজন্য তাদেরকে ২০২৩ এর জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হবে। সেতুর সকল ফিজিক্যাল ওয়ার্ক শেষ করার লক্ষ্য আগামী বছরেরর জুন পর্যন্ত। আশা করছি ২০২২ এর আগেই সকল ফিজিক্যাল ওয়ার্ক শেষ হয়ে যাবে।

২০২৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব ডিফেক্ট লায়াবিলিটি প্রিয়ড-এর অংশ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধি মূল সেতুর ফিজিক্যাল ওয়ার্ক সম্পর্কিত নয়, বড় ধরনের কোন প্রকল্পের ঠিকাদারদের দায়বদ্ধ রাখতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের জন্য সাধারণত ডিফেক্ট লায়াবিলিটি প্রিয়ড ধরা হয় ।

বিআরটিসিকে লাভবান করতে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিআরটিসির লোকসান কমানোর যে চলমান ধারা তা বজায় রাখতে হবে।

করোনার টিকা দেয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জণগণ অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনায় রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে টিকা গ্রহণ করছে। যারা সংশয় সৃষ্টি করার জন্য অপপ্রচার ও গুজব রটনা করছে তাদের সকল অপচেষ্টা আবারো ব্যর্থ হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়তে আবেদন করেছে সেতু বিভাগ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এই বিভাগের পক্ষ থেকে।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। সেটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মেয়াদ বাড়ানো হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহেই আসবে আশা করি।

জানা গেছে ইতোমধ্যে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮৩ভাগ। ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে স্প্যান বসানোর কাজ। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগামী বছরের জুনে প্রকল্পটি চালু হবে। সেতু বিভাগের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। বর্তমানে এ প্রকল্পের বাস্তব কাজ ৮৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট বাস্তব কাজ সমাপ্ত করতে ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে এবং এক বছর ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ডসহ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালকের প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাবটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সেতু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্পের মূল সময় এক বছর বাড়বে। তবে আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো। তবে আমরা আরও এক বছর সময় হাতে রাখছি। এটা ডিফেক্ট নটিফিকেশন পিরিয়ড। এই সময়ে আমরা ঠিকাদারকে টাকা পয়সা দেবো না। ঠিকাদার বিনা পয়সায় প্রকল্পের মেইনটেইন করবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ এর কারণেপ্র্রকল্পের কাজে নিয়োজিত দক্ষ জনবল বিশেষ করে বেশ কয়েক জন বিদেশি এক্সপার্ট কাজে যোগ না দেয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি কাঙ্খিত মাত্রায় অর্জন হয়নি। বর্তমান অগ্রগতি এবং অসমাপ্ত কাজ বিবেচনায় এনে বলা যায় প্রকল্পের কাজ পূর্ব নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না। চলমান কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় মূল সেতু ও নদীশাসন কাজসহ প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২২ তারিখে সমাপ্ত হবে বলে আশা করা যায়। প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২২ এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ও ঠিকাদারের দেনা পাওনা মিটাতে আরও এক বছর অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পদ্মাসেতুর মোট দৈর্ঘ্য ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।